পাকিস্তানের রাজনৈতিক সংকট আরও টালমাটাল রূপ ধারণ করেছে। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে যখন রোববার পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান তাকে ক্ষমতাচ্যুত করার সকল প্রচেষ্টাকে সফলভাবে এড়িয়ে যান এবং নতুন নির্বাচন দাবি করেন।
এ সময় বিরোধীদের বিশ্বাসঘাতক বলে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন ইমরান খান এবং শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেন।
এদিন পাকিস্তান পার্লামেন্টের ডেপুটি স্পিকার কাসেম সুরি প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা প্রস্তাবকে অসাংবিধানিক হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমেই আরও বিপদজনক অবস্থার দিকে যাচ্ছে। একটি সম্ভাব্য সাংবিধানিক যুদ্ধ শুরু হয়েছে। পারমাণবিক শক্তিধর দেশটির ২২ কোটি মানুষ নতুন করে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন।
পাকিস্তানের বর্তমান প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভি। তিনিও ইমরানের রাজনৈতিক দলের সদস্য। ইমরান খানের সংসদ ভেঙে দেয়ার অনুরোধ আমলে নিয়েছেন প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভি এবং সংসদ ভেঙে দেয়ার অনুমোদন দিয়েছেন।
প্রেসিডেন্টের এমন সিদ্ধান্তের পর বিরোধী দল অর্থাৎ পাকিস্তান পিপলস পার্টির প্রধান বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি সংসদে সাংবাদিকদের বলেন, আমরাও আজ সুপ্রিম কোর্টে যাচ্ছি।
আরেক বিরোধীদলীয় নেতা শাহবাজ শরিফ পার্লামেন্টারি ব্লককে "উচ্চ রাষ্ট্রদ্রোহিতা থেকে কম কিছু নয়" বলে অভিহিত করেছেন। ইমরান খানকে অপসারণ করা হলে তার স্থলাভিষিক্ত হওয়ার কথা রয়েছে শরিফের।
শরিফ এক টুইট বার্তায় বলেছেন, সংবিধানের নির্লজ্জ লঙ্ঘনের পরিণতি গ্রহণ করতে হবে। তিনি আশা করেন যে সুপ্রিম কোর্ট সংবিধানকে সমুন্নত রাখতে ভূমিকা পালন করবে।
অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে এবং দুর্নীতি দমনে ব্যর্থ হওয়ার জন্য ইমরানকে দায়ি করছেন বিরোধীরা।
ইমরান খান বলেন, প্রমাণ ছাড়াই তাকে ক্ষমতাচ্যুত করার পদক্ষেপটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দ্বারা সাজানো হয়েছিল। যদিও এ দাবি ওয়াশিংটন অস্বীকার করেছে।
বিরোধীরা এবং বিশ্লেষকরা বলছেন, খান একজন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট চ্যাম্পিয়ন হয়ে রাজনীতিবিদ হয়েছিলেন, যিনি ২০১৮ সালে শক্তিশালী সামরিক সমর্থনে ক্ষমতায় এসেছিলেন। যদিও এমন অভিযোগের কথা ইমরান খান এবং সামরিক বাহিনী অস্বীকার করে।
সেনাবাহিনীর জনসংযোগ শাখার প্রধান মেজর জেনারেল বাবর ইফতিখার বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলেন, রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে সেনাবাহিনীর কোনো সম্পর্ক নেই।
আরও পড়ুন: রাশিয়ায় পুতিনের জনসমর্থন বেড়েছে: জরিপ
প্রধান বিচারপতির কার্যালয় জানিয়েছে, রোববারের রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে সুপ্রিম কোর্ট অবগত।
এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, প্রধান বিচারপতি বর্তমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং পরবর্তীতে এ নিয়ে আলোচনা করা হবে।
১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসনের অবসানের পর থেকে এখন পর্যন্ত পাকিস্তানের কোনো প্রধানমন্ত্রীই পুরো পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ করতে পারেননি। নানা সময় সামরিক বাহিনী নানাভাবে দেশটি শাসন করেছে। আর এ কারণে পারমাণবিক অস্ত্রধারী প্রতিবেশী ভারতের সাথে পাকিস্তানের দ্বন্দ্ব আরও প্রকট হয়েছে।
একাত্তর/আরবিএস
