মিয়ানমারে নববর্ষ উপলক্ষে এক হাজার ৬০০ কারাবন্দীকে মুক্তি দিচ্ছে দেশটির সেনা সরকার। এসব বন্দীদের মধ্যে ৪২ জন বিদেশি নাগরিকও রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
দেশটির স্বরাষ্ট্র সচিবের বরাতে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স রোববার (১৭ এপ্রিল) এ তথ্য নিশ্চিত করে।
মিয়ানমারের সেনা সরকারের স্বরাষ্ট্র সচিব লেফটেন্যান্ট জেনারেল অং লিন দোয়ে স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, ৪২ বিদেশি এক হাজার ৬২৯ কারাবন্দীকে সাধারণ ক্ষমার আওতায় মুক্তি দেওয়া হচ্ছে।
মানবাধিকার সংস্থা অ্যাসিস্টেন্স অ্যাসোসিয়েশন অব পলিটিক্যাল প্রিজনারস (এএপিপি) বলছে, মিয়ানমারের ক্ষমতায় সেনা সরকার আসার পর কমপক্ষে ১৩ হাজার ২৮২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া হামলা, দমন-পীড়ন ও বিক্ষোভে গুলিতে নিহত হয়েছেন কমপক্ষে এক হাজার ৭৫৬ জন।
আটককৃতদের ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন, দেশটির ক্ষমতাচ্যুত নেতা ও নোবেলজয়ী অং সান সু চি এবং তার অস্ট্রেলীয় অর্থনৈতিক উপদেষ্টা শন টারনেল। বর্তমানে সু চিকে রাজধানী নেপিডোর একটি স্থানে বন্দী রাখা হয়েছে। আর শন টারনেল বন্দী আছেন ইয়াঙ্গুনের ইনসেইন কারাগারে।
এদিকে বন্দীদের সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার পর রোববার কারাগারের সামনে ভিড় করেন স্বজনেরা। রয়টার্সের স্থানীয় প্রতিনিধি জানান, এখন পর্যন্ত কারাগার থেকে কাউকে মুক্তি দেওয়া হয়নি।
আরও পড়ুন: যুদ্ধের জেরে ইউক্রেন ছেড়েছে ৫০ লাখ মানুষ: জাতিসংঘ
এর আগে গত বছর প্রায় ২৩ হাজার বন্দীকে মুক্তি দিয়েছিল দেশটি। সে তুলনায় এ বছর অনেক কম বন্দীকে মুক্তি দেয়া হচ্ছে।
২০২১ সালের পহেলা ফেব্রুয়ারি সেনা অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) সরকারকে হটিয়ে ক্ষমতায় বসে সামরিক জান্তা। এরপর থেকে দেশটিতে একদিকে বাড়ছে সামরিক নিপীড়ন, অন্যদিকে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ।
একাত্তর/আরবিএস
