দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় শরণার্থী সংকটে পড়েছে ইউরোপ। ইউক্রেনে রুশ সামরিক আগ্রাসন শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৫০ লাখ মানুষ দেশ ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন। দেশ ছাড়ার অপেক্ষায় আছেন আরও কয়েক লাখ মানুষ।
জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার (ইউএনএইচসিআর) জানিয়েছে, চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারির পর থেকে চলতি মাস পর্যন্ত মোট ৪৭ লাখ ৯৬ হাজার ২৪৫ জন ইউক্রেনীয় নাগরিক দেশ ছেড়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সংস্থাটি যে পরিসংখ্যান জানিয়েছিল, শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) তার সাথে আরও ৫৯ হাজার ৭৭৪ জন নতুন শরণার্থী যুক্ত হয়েছেন, অর্থাৎ একদিনের ব্যবধানে শরণার্থী বেড়েছে ৫৯ হাজার ৭৭৪ জন।
প্রতিবেশি দেশ পোল্যান্ডে পালিয়ে গেছে কমপক্ষে ২৭ লাখ মানুষ। আর রোমানিয়া পৌঁছেছে ৭ লাখ ২৫ হাজার।
ইউএনএইচসিআরের পরিসংখ্যান বলছে, শুধু ফেব্রুয়ারি মাসেই প্রায় ৬ লাখ ৪৫ হাজার ইউক্রেনীয় দেশ ছেড়েছে। মার্চে মাসে প্রায় ৩৫ লাখ এবং চলতি এপ্রিল মাসে এখন পর্যন্ত ৭ লাখ ৬০ হাজারেরও বেশি ইউক্রেনীয় নাগরিক দেশ ছেড়েছে।
যারা দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছেন তাদের ৯০ শতাংশই নারী ও শিশু। আর ১৮ থেকে ৬০ বছর বয়সী পুরুষরা সামরিক কাজে যুক্ত হয়েছেন।
জাতিসংঘের সবশেষ তথ্য মতে, মোট ৩ লাখ ২৯ হাজার ৫২৯ জন ইউক্রেনের নিকটবর্তী সীমান্ত পেরিয়ে স্লোভাকিয়ায় এবং ২২ হাজার ৮২৭ জন শরণার্থী রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ মিত্র বেলারুশের উত্তরে পৌঁছেছে।
সংস্থাটি আরও জানায়, শরণার্থীদের বাইরেও ইউক্রেনে এখনও ৭০ লাখ মানুষ রয়েছেন যারা তাদের বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। কিন্তু তারা দেশেই রয়েছেন।
একাত্তর/আরবিএস
