একের পর এক বন্দুক হামলার জেরে যুক্তরাষ্ট্রে অনেক দিন ধরেই বিতর্ক চলছে দেশটির অস্ত্র আইন নিয়ে। এবার টেক্সাসের একটি স্কুলে এক তরুণের গুলিতে ১৯ শিশুসহ ২১ জন নিহত হওয়ার পর সেই বিতর্কের আগুনে আবারও হাওয়া লেগেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র আইন হালনাগাদ করার আহবান জানিয়েছেন দেশটির বেশ কয়েকজন আইনপ্রণেতা।
বুধবার (২৫ মে) মার্কিন পার্লামেন্টের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি টেক্সাসের ঘটনাকে 'ঠাণ্ডা মাথায় স্কুলশিশু হত্যাকাণ্ড' বলে আখ্যা দিয়ে টুইট করেন। হামলাকারী 'শিশুদের ভবিষ্যৎ চুরি করেছে' বলে মন্তব্য করেন তিনি।
যেসব মার্কিন রাজনীতিবিদ অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইন প্রয়োগ করেন তাদের সমালোচনা করে পেলোসি বলেন, লম্বা সময় ধরে কিছু কিছু কংগ্রেস সদস্য শুটিংয়ের ঘটনার পর ফাঁকা বুলি ছুঁড়েছেন এবং একইসাথে জীবন বাঁচানোর সব চেষ্টার বিরোধিতা করেছেন। জীবন রক্ষায় কাণ্ডজ্ঞান ব্যবহার করে আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগ করার আহবান জানান তিনি।
এদিকে মেইন রাজ্যের প্রতিনিধিত্বকারী রিপাবলিকান সিনেটর সুসান কলিন্স অস্ত্র বিষয়ক বর্তমান আইন সংশোধন করে একটি 'ইয়েলো ফ্ল্যাগ' আইন প্রনয়ণ করার আহবান জানান।
আরও পড়ুন: টেক্সাসে স্কুলে গুলি, ১৯ শিশু শিক্ষার্থীসহ নিহত ২১
২০২০ সালের জুলাই মাসে মেইনে এই আইনটি কার্যকর হয়। এই আইন অনুযায়ী, নিজের বা অন্যের জন্য বিপজ্জনক, এমন ব্যক্তিদের কাছ থেকে বন্দুক ও অন্যান্য অস্ত্র বাজেয়াপ্ত করতে পুলিশ পেশাদার চিকিৎসকের মূল্যায়নের আবেদন করতে পারবেন।
তার এ ভাবনার প্রতিফলন দেখা যায় কানেকটিকাটের ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর ক্রিস মারফির কথায়ও। তিনি বলেন, আপস করে হলেও জীবন রক্ষায় তিনি তার রিপাবলিকান সহকর্মীদের সাথে কাজ করতে বদ্ধপরিকর।
যুক্তরাষ্ট্রের কোনো স্কুলে গত ১০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ বন্দুক হামলার ঘটনা ছিল এটি। এর আগে ২০১২ সালে কানেকটিকাটের স্যান্ডি হুক এলিমেন্টারি স্কুলে বন্দুকধারীর হামলায় ২০ শিশুসহ ২৬ জনের মৃত্যু হয়।
একাত্তর/এসজে
