দেড়শো বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ তাপমাত্রায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে জাপানের জনজীবন।
মঙ্গলবার টানা চার দিন ধরে রেকর্ড তাপমাত্রা দেশটিতে।
এদিন সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস হতে পারে বলে পূর্বাভাস আবহাওয়া অফিসের। এর আগের তিনদিন তাপমাত্রা ছিলো ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
বলা হচ্ছে ১৮৭৫ সালের পর জুন মাসে এতো তাপমাত্রায় পুড়ছে জাপান। হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যা বেড়ে গেছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সকাল নয়টা নাগাদ ১৩ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। স্থানীয় গণমাধ্যম বলছে। হিটস্ট্রোকে এ পর্যন্ত দুজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
দাবদাহের কারণে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো রাজধানী টোকিও এবং আশপাশের এলাকার নাগরিকদের বিদ্যুৎ ঘাটতি নিয়ে সতর্ক করেছে দেশটির সরকার।
তাপদাহে জাপানে বিদ্যুৎ সংকটের সতর্কতা
জাপানে তীব্র তাপদাহের কারণে রাজধানী টোকিও এবং আশপাশের এলাকার নাগরিকদের বিদ্যুৎ ঘাটতি নিয়ে সতর্ক করেছে সরকার।
সোমবার বিকেলে বিদ্যুৎ চাহিদা তীব্র হওয়ার কথা জানিয়েছে দেশটির অর্থ, বাণিজ্য এবং শিল্প মন্ত্রণালয়। তাই প্রতিদিন তিন ঘন্টা বিদ্যুৎ বন্ধ রাখতে বলেছে কর্তৃপক্ষ।
এদিন বিকেলে টোকিও এবং আশপাশের আটটি এলাকায় বিদ্যুতের অতিরিক্ত উৎপাদন ক্ষমতা তিন দশমিক সাত শতাংশে নেমে আসার কথা বলা হয়েছে।
এতে অপ্রয়োজনীয় বাতি অবশ্যই অন্তত তিন ঘণ্টা বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। তবে হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি এড়াতে এসি ব্যবহার করা যেতে পারে।
জাপান সরকার সতর্ক করে বলছে, আগামী কয়েক সপ্তাহের জন্য দেশে তাপমাত্রা বাড়বে। ফলে দেখা দেবে বিদ্যুৎ সংকট। তাপপ্রবাহের কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহে চাপও বাড়বে।
সপ্তাহান্তে মধ্য টোকিওর তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। আর, ইসেসকি শহরে তাপমাত্রা ছিল ৪০ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা জুনে জাপানের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে জাপানে তাপমাত্রা বাড়ছে। যে কারণে বিদ্যুতের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় যে কোনো সময় বিদ্যুত বিভ্রাট দেখা দিতে পারে বলে সতর্ক করেছে দেশটির কর্মকর্তারা।
জাপানের বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাপমাত্রা বাড়ার ফলে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে তা ‘অপ্রত্যাশিত’। যদি চাহিদা পায় তাহলে সরবরাহের সমস্যা হতে পারে।
একাত্তর/এসএ
