বিশ্বে উষ্ণতা বৃদ্ধির গড় হারের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ গতিতে মধ্যপ্রাচ্যে উষ্ণতা বাড়ছে। এতে করে শতাব্দীর শেষ নাগাদ মধ্যপ্রাচ্যের উষ্ণতা পাঁচ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়তে পারে।
ফলে অঞ্চলটির জনগণ ও অর্থনীতির ওপর ভয়াবহ প্রভাব পড়ার হুমকি তৈরি হয়েছে। মিসরে জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলনের আগে প্রকাশিত এক গবেষণায় এমন আভাস দেয়া হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্য ও পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে প্রতি দশকে গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধির হার শূন্য দশমিক ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আর এ সময়ের মধ্যে প্রতি দশকে বিশ্বে গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধির হার শূন্য দশমিক ২৭ ডিগ্রি। ১৯৮১ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এ পরিসংখ্যান উঠে এসেছে।
রিভিউস অব জিওফিজিক্স সাময়িকীতে প্রথম গত জুনে প্রতিবেদনটি প্রকাশ পায়। সম্প্রতি এটি হালনাগাদ করা হয়েছে। সেখানে পাওয়া গেছে আরও ভায়াবহ তথ্য।
গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অবিলম্বে পরিস্থিতির পরিবর্তন না ঘটলে শতাব্দীর শেষ নাগাদ মধ্যপ্রাচ্যের উষ্ণতা পাঁচ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়তে পারে।
এটি কিছু দেশের মানুষের ন্যূনতম অভিযোজন ক্ষমতার মাপকাঠিকে ছাড়িয়ে যেতে পারে। অর্থাৎ যে মাত্রার উষ্ণতায় মানুষ অভিযোজন করতে পারে, তার চেয়ে বেশি উষ্ণ হবে দেশগুলো।
জার্মানিভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ইনস্টিটিউট ফর কেমিস্ট্রির গবেষকেরা বলছেন, উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণে মানুষকে স্বাস্থ্যগতভাবে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়তে হবে।
তাদের জীবনযাত্রা ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। বিশেষ করে, সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠী, বয়স্ক মানুষ, শিশু ও অন্তঃসত্ত্বারা হুমকিতে পড়বেন।
গ্রিস, মিসর, লেবানন, সিরিয়া, ইরাক, বাহরাইন, কুয়েত, আরব আমিরাত এবং ইরানকের মতো দেশকে এই গবেষণার আওতায় রাখা হয়েছে।
এই গবেষণায় দেখা গেছে, মধ্যপ্রাচ্য যে শুধু ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তা–ই নয়, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও অঞ্চলটির বড় ধরনের দায়ও আছে।
আরও পড়ুন: ২০২৩ সালের শেষ বা জানুয়ারির শুরুতে জাতীয় নির্বাচন
তেলসমৃদ্ধ মধ্যপ্রাচ্য বিশ্বে গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণের অন্যতম একটি উৎসে পরিণত হওয়ার পথে আছে।
পরিবেশ ও জলবায়ুর জন্য ক্ষতিকর এই গ্যাস নিঃসরণের দিক থেকে কয়েক বছরে অঞ্চলটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের স্থান দখল করে নেবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এরইমধ্যে, শুকাতে শুরু করেছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর নূনতম জলসায় বা পানির স্থানগুলো। প্রতি বছরই রেকর্ড ছাড়াচ্ছে তাপমাত্র। অসহ্য হয়ে উঠছে গরম।
