ক্রিমিয়ার সঙ্গে রাশিয়াকে সংযুক্তকারী সেতুতে শক্তিশালী বিস্ফোরণের জবাবে ইউক্রেনজুড়ে মিসাইল হামলা চালিয়েছে মস্কো। এখন পর্যন্ত অন্তত ১৪ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এ হামলার পরপরই পাল্টা প্রতিরোধের ডাক দিয়ে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি বলছে, সোমবার (১০ অক্টোবর) সকাল থেকে ইউক্রেনের বেশ কয়েকটি শহরে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। রাজধানী কিয়েভ ছাড়াও লভিভ, খারকিভ, ডিনিপ্রো এবং জাপোরিঝিয়া শহরেও বড় ধরনের হামলা হয়েছে। আহত হয়েছে শতাধিক মানুষ।
গেলো ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেন আগ্রাসনের পর প্রথমবারের মতো কিয়েভে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালালো রাশিয়া।
এদিকে সোমবারের হামলার পরপরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে কথা বলেন।
এক বিবৃতিতে বাইডেন বলেন, রাশিয়া সামরিক উদ্দেশ্য ছাড়াই বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করেছে।
তিনি বলেন, এ হামলা ইউক্রেনের জনগণের পাশে দাঁড়ানোর জন্য আমাদের প্রতিশ্রুতিকে আরও শক্তিশালী করে। দেশ এবং তাদের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য ইউক্রেনের বাহিনীকে সমর্থন প্রদান অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
এসব হামলার মধ্য দিয়ে পুতিন অবৈধ যুদ্ধের চরম বর্বরতা প্রদর্শন করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বাইডেন আরও বলেন, ওয়াশিংটন এবং তার মিত্ররা এ হামলাকে "নৃশংসতা ও যুদ্ধাপরাধ" বলে অভিহিত করে। মস্কোর ওপর আরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, রাশিয়ার নৃশংস হামলা থেকে বাদ পড়েনি বিশ্ববিদ্যালয় ও শিশুদের খেলার মাঠ। এতে সামরিক কোনো উদ্দেশ্য অর্জন হবে না।
যদিও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, ক্রিমিয়ার গুরুত্বপূর্ণ সেতুতে সন্ত্রাসী হামলার প্রতিশোধ নিতেই ইউক্রেনজুড়ে নতুন করে হামলা চালানো হয়েছে। এরইমধ্যে হামলা জোরদার করেছে রুশ বাহিনী।
আরও পড়ুন: চালের বাজার কমতির দিকে হলেও যথেষ্ট নয়
অন্যদিকে ইউক্রেন জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ৮৩টি ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়েছে রাশিয়া। অশিকাংশই আঘাত হেনেছে কোনো না কোনো স্থাপনায়। এছাড়া গুলিবিদ্ধ হয়েছে কমপক্ষে ৪৩ জন। আহতদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে শঙ্কা কর্তৃপক্ষের।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, এ হামলার ফলে ইউক্রেন আরও ঐক্যবদ্ধ হবে। পাশপাশি নাগরিকদের প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
একাত্তর/আরবিএস
