পৃথিবীর মানুষকে মহাজাগতিক আক্রমণ থেকে রক্ষা করার স্বপ্ন এখন থেকে দেখতেই পারে আমেরিকার মহাকাশ গবেষণা সংস্থা- নাসা।
পৃথিবীর বুকে গ্রহাণুর আছড়ে পরার কারণে ডাইনোসর থেকে শুরু করে অনেক প্রাণী বিলুপ্ত হয়েছে। এমন ধরনের বিশাল দুর্ঘটনা এড়ানোর পথ খুঁজছিলো মহাকাশ বিজ্ঞানীরা।
পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসা গ্রহাণুগুলোর গতিপথ যদি বদলে দেয়া যায়, তাহলেই রক্ষা পেতে পারে মানুষের বসবাসের একমাত্র গ্রহটি।
গ্রহাণুর গতিপথ বদলে দিতে হলে সেটিতে এমন জোরে ধাক্কা দিতে হবে, যাতে করে গতিপথ বদলাতে বাধ্য হয় বা বদলে যায়। আপাত দৃষ্টিতে সহজ বাস্তবায়ন অনেক কঠিন।
তবে সেই কঠিন কাজটিতে সফল হয়েছে নাসা। পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসা এক গ্রহাণুর গতিপথ সফলভাবে বদলে দিয়েছে নাসার ‘ডার্ট’ মহাকাশযান।
তীব্র গতিতে সেই গ্রহাণু পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসছিলো। এটি ভূপৃষ্ঠে পড়লে পৃথিবীবাসীর অনেক বিপদ ছিলো। বড় একটি এলাকা ধ্বংস হয়ে যেতে পারতো।
সেই গ্রহাণুর গতিপথ বদল করতে ১০ মাস আগে নাসা পরীক্ষামূলকভাবে ডার্ট নামের একটি মহাকাশযান নিক্ষেপ করে।
গেলো ২৬ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ সময় ভোর পাঁচটার দিকে সেই মহাকাশযানটি ওই গ্রহাণুকে সজোরে ধাক্কা মারার পর বিধ্বস্ত হয়ে যায় অনেকটা আত্মঘাতী কৌশলে।

এরপর থেকেই নাসার বিজ্ঞানীরা হিসাব কষতে নেমে যান, ডাটের ধাক্কায় কি বদলে দেয়া গেলো গ্রহাণুটির গতিপথ। চুলচেরা হিসাব করে নাসা জানালো, হ্যাঁ গ্রহাণুর গতিপথ বদলে দেয়া গেছে।
মঙ্গলবার নিজেদের ডার্ট মিশনের সাফল্যের কথা জানায় নাসা। জানিয়ে দেয়, মহাকাশযানের ধাক্কায় ফলে গ্রহাণুর গতিপথ বদল হয়েছে।
ফলাফল ঘোষণার সময় নাসার প্রধান বিল নেলসন বলেন, পৃথিবীর প্রতিরক্ষায় এই সাফল্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত এবং গোটা মানবতার জন্যও এটি একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত।
পৃথিবীর দিকে তেড়ে আসা গ্রহাণুকে কীভাবে প্রতিহত করা যাবে, নাসার অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল সেই প্রশ্নের জবাব খোঁজা।
এর জন্য প্রায় ১.১ কোটি কিলোমিটার দূরে থাকা ডিমরফস নামের এক গ্রহাণুকে ধাক্কা মেরে তার গতিপথ বদলের চেষ্টা করে নাসা।
এ লক্ষ্যে গেলো বছর নভেম্বরে ডার্ট উৎক্ষেপণ করা হয়। ক্যালিফোর্নিয়ার ভ্যানডেনবার্গ এয়ার ফোর্স বেস থেকে স্পেসএক্স ফ্যালকন ৯ রকেটে যাত্রা শুরু করে ডার্ট।
আর গত ২৬ সেপ্টেম্বর মহাকাশযানটি ২০ হাজার কিমি প্রতি ঘণ্টা বেগে ১৬০ মিটার প্রশস্ত ডিমরফসে সরাসরি ধাক্কা মারে।
আরও পড়ুন: রাজা চার্লসের মাথায় মুকুট উঠবে আগামী বছরের ৬ মে
নাসা আসলে দেখতে চাইছিল, এভাবে মহাকাশযান দিয়ে 'ধাক্কা মেরে' কোনও গ্রহাণুর গতিপথ বদলে দেওয়া যায় কিনা।
ডিমরফস নামে এই গ্রহাণুটি আসলে একটি বড় গ্রহাণুকে কেন্দ্র করে প্রদক্ষিণ করছে। তার নাম ডিডিমস। অর্থাৎ, অনেকটা যেন ডিডিমসের চাঁদ ডিমরফস।
এই ধাক্কা মারার মাধ্যমে ডিমরফসের কক্ষপথ সামান্য বদলে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলো নাসা। এবং সেই প্রচেষ্টায় সফল হয়েছে নাসা।
একাত্তর/এসি
