পাকিস্তানে হত্যাচেষ্টার হামলায় আহত দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান জানিয়েছেন, সুস্থ হয়ে ইসলামাবাদ অভিমুখে লংমার্চে ফিরবেন তিনি।
শুক্রবার (৪ নভেম্বর) লাহোরের একটি হাসপাতাল থেকে দেয়া বক্তৃতায় এ ঘোষণা দেন তিনি।
ওয়াজিরাবাদে তাকে দুইজন হত্যা করতে চেষ্টা চালিয়েছিল দাবি করে ইমরান খান বলেন, এ হামলায় একজন নিহত ও ১১ জন আহত হয়েছেন।
আগাম নির্বাচন ও শাহবাজ শরীফের পদত্যাগের দাবিতে গত শুক্রবার (২৮ অক্টোবর) লাহোর থেকে রাজধানী ইসলামাবাদের উদ্দেশ্যে লংমার্চ শুরু করেন ইমরান খান।
বৃহস্পতিবার (৩ নভেম্বর) ওয়াজিরাবাদের গুজরানওয়ালায় পৌঁছালে সেখানে এক জনসমাবেশে তার ওপর গুলি চালায় এক ব্যক্তি। দুইটি গুলি গিয়ে ইমরানের পায়ের জঙ্ঘা ও ঊরুতে গিয়ে লাগে।
ইমরানের ওপর হামলার প্রতিবাদে শুক্রবার রাস্তায় নেমে আসেন তার দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। কিছু কিছু এলাকায় রাস্তা বন্ধ করে দিলে পুলিশের সাথে তাদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
কিছু সমর্থক হামলার ঘটনাস্থলে জড়ো হয়ে ইমরানের প্রতি লংমার্চ চালিয়ে যাওয়ার আহবান জানান।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রানা সানাউল্লাহ ও গোয়েন্দা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল ফয়সাল নাসেরের বিরুদ্ধে ইমরানকে হত্যার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ করেছেন তিনি।
তবে এ অভিযোগকে 'ভিত্তিহীন ও দায়িত্বজ্ঞানহীন' বলে উড়িয়ে দিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনীর মিডিয়া উইং।
এক বিবৃতিতে পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ দপ্তর বলে, কোনও ধরণের তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই পাকিস্তানের সরকারি প্রতিষ্ঠান ও এর কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ ও মানহানির ব্যাপারে তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ করা হয়েছে'।
আরও পড়ুন: ভারতে শিবসেনা নেতাকে গুলি করে হত্যা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রানা সানাউল্লাহও এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, এসবের স্বাধীন তদন্ত করার দাবি জানিয়েছে কোয়ালিশন সরকার। শাহবাজ শরীফও হামলার নিন্দা জানিয়ে এর তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন।
এদিকে, হামলার পর সন্দেহভাজন হামলাকারীর একটি ভিডিও স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়, যেখানে তিনি ধর্মীয় কারণে উদ্বুদ্ধ হয়ে ইমরানের ওপর হামলার কথা বলেন। এ ধরণের ভিডিও আরও অনেককে এরকম কাজ করতে উৎসাহিত করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
একাত্তর/এসজে
