মিয়ানমারের জান্তা সরকারকে পাঁচ দফা শান্তি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিতে সম্মত হয়েছেন দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর নেতারা।
এর আগেও জান্তা সরকার একই ধরনের ঐকমত্যের একটি চুক্তি বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়েছে। আর সে কারণেই জান্তা সরকারের সদস্যদের আসিয়ানের শীর্ষ সম্মেলন এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে অংশগ্রহণে বাধা দেয়া হয়েছে।
শুক্রবার (১১ নভেম্বর) দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় জাতি সংস্থা বা আসিয়ানের শীর্ষ সম্মেলনে মিয়ানমারের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তিন বছরের মধ্যে প্রথমবারের মত এই ফোরামের মুখোমুখি বৈঠক আয়োজন করছে কম্বোডিয়া।
আসিয়ান নেতারা এই বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, মিয়ানমারের পরিস্থিতি এখনও সংকটজনক এবং নাজুক, যার মধ্যে ক্রমবর্ধমান সহিংসতা একটি প্রধান উদ্বেগের বিষয়।
তারা পাঁচ দফা ঐকমত্য বাস্তবায়নের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট সময়সূচিসহ "গঠনমূলক, বাস্তবসম্মত এবং পরিমাপযোগ্য সূচকগুলোকে তুলে ধরার" মতো একটি পরিকল্পনা প্রণয়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
আসিয়ানের পাঁচ দফার মধ্যে আইন, রাজনৈতিক পরিবেশ ও মানবাধিকারের বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে।
এছাড়া, পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজন সাপেক্ষে আসিয়ানের বৈঠকসমূহের সকল স্তরে মিয়ানমারের প্রতিনিধিত্বের বিষয়টি পর্যালোচনা করতেও সম্মত হয়েছেন নেতৃবৃন্দ।
সর্বশেষ আসিয়ান সম্মেলনে কোনো অরাজনৈতিক প্রতিনিধি পাঠাতে অস্বীকৃতি জানায় মিয়ানমার। তবে, জান্তা সরকার শান্তি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য একটি সুনির্দিস্ট সময়সীমা মেনে নিতে রাজি হবে কিনা, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
আরও পড়ুন: দেশে খাদ্য ঘাটতি বা দুর্ভিক্ষের সম্ভাবনা নেই: খাদ্যমন্ত্রী
উল্লেখ্য, ২০২১ সালে এক সেনা অভ্যুত্থানের ফলে দেশটির এক দশকের গণতান্ত্রিক কাঠামো এবং অর্থনৈতিক অবস্থান বদলে যায়। দেশটিতে এখনও সহিংসতা চলমান।
গত বছরের শেষ দিকে বেশ কয়েকটি অপরাধের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হন দেশটি অন্যতম আলোচিত নেতা সু চি। তবে গোপনে পরিচালিত ওই বিচারকে একটি প্রতারণা হিসাবে বিদ্রুপ করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। পাশপাশি রোহিঙ্গা ইস্যুতেও বিশ্বব্যাপী সমালোচনার মুখে পড়ে জান্তা সরকার।
একাত্তর/আরবিএস
