অস্ট্রেলিয়ায় কুইন্সল্যান্ডের এক প্রত্যন্ত এলাকায় গোলাগুলিতে দুই পুলিশ কর্মকর্তাসহ ছয়জন নিহত হয়েছেন।
স্থানীয় সময় সোমবার (১২ ডিসেম্বর) বিকেলে কুইন্সল্যান্ডের উইয়েমবিলায় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ জানিয়েছে, নিখোঁজ এক ব্যক্তিকে উদ্ধার অভিযানে যাওয়া চার পুলিশ কর্মকর্তার ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। এসময় ঘটনাস্থলে থাকা এক প্রত্যক্ষদর্শীও হামলাকারীদের গুলিতে নিহত হন।
পরে বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের সাথে কয়েক ঘণ্টার গোলাগুলির পর গুলিবিদ্ধ হয়ে তিন সন্দেহভাজনের মৃত্যু হয়।
বিবিসি জানিয়েছে, নিহত সন্দেহভাজনদের মধ্যে একজন একটি স্কুলের অধ্যক্ষ, যাকে খুঁজতেই পুলিশ সেখানে গিয়েছিলো। বাকি দুইজন তার ভাই ও ভাইয়ের স্ত্রী।
কুইন্সল্যান্ডের পুলিশ কমিশনার ক্যাটারিনা ক্যারল একে 'অকল্পনীয় ট্র্যাজেডি' হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেন, বহু বছরে অস্ট্রেলিয়ার পুলিশ বাহিনীর একাধিক সদস্য একই ঘটনায় মৃত্যুবরণ করেননি।
তিনি জানান, আরেক পুলিশ কর্মকর্তা কোনভাবে নিজেকে লুকিয়ে সাহায্যের জন্য আহবান জানান। পরে হামলাকারীরা আগুন জ্বালিয়ে তাকেও বের করে আনার চেষ্টা চালায়।
এখনও হামলার কারণ সম্পর্কে কিছু জানাতে পারেনি পুলিশ। ওই পুলিশ সদস্যদের সেখানে ফাঁদে ফেলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিলো কিনা তাও স্পষ্ট নয়।
আরও পড়ুন: তুরস্কে নতুন তেলের খনি আবিষ্কার
তবে স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহতদের মধ্যে একজন বিভিন্ন অনলাইন ফোরামে ষড়যন্ত্র তত্ত্ব নিয়ে আলোচনা করতেন। অস্ট্রেলীয়দের কাছ থেকে অস্ত্র কেড়ে নেয়ার জন্য সরকার দেশটির সবচেয়ে ভয়াবহ বন্দুক হামলার নাটক সাজিয়েছিল বলে দাবি ছিল তার।
১৯৯৬ সালের সেই ঘটনায় তাসমানিয়ার পোর্ট আর্থারে এক বন্দুকধারীর হামলায় ৩৫ জন নিহত হন। এরপর দেশটিতে পৃথিবীর কঠোরতম অস্ত্র আইন প্রণয়ন করা হয়, যার ফলস্বরূপ দেশটিতে গত ২৬ বছরে মাত্র তিনটি বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটেছে।
একাত্তর/এসজে
