নানা নাটকীয়তা ও উত্তেজনার মধ্যে দিয়ে দ্বিতীয় বছরে গড়ালো ইউক্রেন যুদ্ধ। ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে আনুষ্ঠানিকভাবে কথিত আগ্রাসন শুরু করেছিল রাশিয়া। এ যুদ্ধে ব্যাপক প্রাণহানির পাশাপাশি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে ইউক্রেনের একাধিক অঞ্চল। এমন পরিস্থিতিতে আবারও এ যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানালো জাতিসংঘ।
বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, বৃহস্পতিবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) রাশিয়াকে অবিলম্বে নিঃশর্তভাবে ইউক্রেন থেকে রুশ সৈন্য প্রত্যাহারের আহ্বান জানায় সংস্থাটি। ভোটাভুটির মাধ্যমে এই প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়।
বিবিসির খবরের বলা হয়েছে, এদিন ভোটাভুটিতে জাতিসংঘের ১৯৩ সদস্যের মধ্যে ১৪১ সদস্যের সমর্থন পায় ইউক্রেন। ভারত ও চীনসহ ৩২টি সদস্য রাষ্ট্র ভোটদান থেকে বিরত ছিল।
অন্যদিকে এ প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছে সাতটি দেশ। এরমধ্যে রয়েছে রাশিয়া, বেলারুশ, উত্তর কোরিয়া, ইরিত্রিয়া, মালি, নিকারাগুয়া এবং সিরিয়া।

ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দিমিত্রো কুলেবা বলেছেন, এ ভোট এটি পরিষ্কার করে দিয়েছে যে, রাশিয়াকে অবশ্যই তার অবৈধ আগ্রাসন শেষ করতে হবে। ইউক্রেনের আঞ্চলিক অখণ্ডতা অবশ্যই পুনরুদ্ধার করতে হবে।
তিনি এক টুইট বার্তায় বলেন, ইউক্রেনে পুরো স্কেল আক্রমণ চালানো হলেও ইউক্রেন দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে।
যুদ্ধের এক বছর পূর্তির একদিন আগে বুধবার রাতে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে সংস্থাটির প্রধান আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, এই যুদ্ধ আঞ্চলিক অস্থিরতাকে উসকে দিচ্ছে এবং সেই সাথে বিশ্ব জুড়ে উত্তেজনা এবং বিভেদ সৃষ্টি করছে।

তিনি যোগ করেন, বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন সংকট সমাধানের ওপর থেকে নজর এবং সম্পদ সরে যাচ্ছে যুদ্ধের কারণে।
গুতেরেস সবাইকে হুঁশিয়ার করে বলেন, পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের পরোক্ষ হুমকির কথাও উচ্চারিত হচ্ছে। ধ্বংসের দ্বারপ্রান্ত থেকে সরে আসার এখন উপযুক্ত সময়।
জাতিসংঘ মহাসচিব যখন যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানাচ্ছেন তখন যুদ্ধ আরও জটিল ও বিপজ্জনক মোড় নিচ্ছে।

আরও পড়ুন: বিএনপির মুখে গণতন্ত্র, বাইরে স্বৈরাচার: ওবায়দুল কাদের
ইউক্রেনকে এরইমধ্যে কয়েক বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র সহায়তা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলো। পাশাপাশি জার্মান ও মার্কিন ট্যাংক পাচ্ছে ইউক্রেন।
ইউক্রেন যুদ্ধ কমপক্ষে আরও এক বছর চলবে বলে ধারণা ব্রিটেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী বেন ওয়ালেসের।
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বুধবার রাতে জাতির উদ্দেশ্যে এক ভিডিও ভাষণে বলেছেন, তার সরকার পিতৃভূমি রক্ষায় নিয়োজিত সৈনিকদের জন্য আরও নতুন এবং আধুনিক সমরাস্ত্র উৎপাদন বাড়িয়েছে।
আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ন্যাটো জোট নিয়ে রাশিয়া এবং ইউক্রেনকে একটি সমাধানে আসতে হবে, তাছাড়া যুদ্ধ বন্ধের কোনো সম্ভাবনা নেই। অন্যদিকে ইউক্রেনকে নতুন করে যুদ্ধবিমান দেয়া হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন।
একাত্তর/আরবিএস
