রাশিয়ার বিরুদ্ধে অবরুদ্ধ বাখমুত শহরে ফসফরাস বোমা হামলার অভিযোগ করেছে ইউক্রেন।
শনিবার বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী দ্বারা প্রকাশিত ড্রোন ফুটেজে বাখমুতে আগুন জ্বলতে ও শহরের উপর সাদা ফসফরাস বৃষ্টির মতো হতে দেখা যায়।
ঠিক কখন কথিত হামলাটি হয়েছে তা স্পষ্ট নয়। তবে ইউক্রেনের শেয়ার করা ফুটেজে বেশ কিছু উচ্চ ভবনে আগুন জ্বলতে দেখা গেছে। ভিডিওটি নজরদারি ড্রোন দ্বারা ধারণ করা হয়েছে বলে আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করা অন্যান্য ভিডিওতে মাটিতে আগুন জ্বলতে দেখা যায়।
সাদা ফসফরাস অস্ত্র নিষিদ্ধ নয়, তবে বেসামরিক এলাকায় এগুলোর ব্যবহার যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়।
ফসফরাস বোমা দ্রুত ছড়িয়ে পড়া আগুন তৈরি করে, যা নেভানো খুব কঠিন। রাশিয়ার বিরুদ্ধে এর আগেও এগুলো ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে।
শহরটির কৌশলগত মূল্য সন্দেহজনক হওয়া সত্ত্বেও রাশিয়া কয়েক মাস ধরে বাখমুত দখলের চেষ্টা করছে।
বাখমুতে হামলায় এ পর্যন্ত মস্কোর হাজার হাজার সৈন্য মারা গেছে বলে পশ্চিমা কর্মকর্তারা অনুমান করছেন।
ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক টুইটবার্তায় বলে, ‘আগ্নেয়াস্ত্রের গোলাবারুদসহ বাখমুতের অনধিকৃত এলাকা’ লক্ষ্য করে ফসফরাস আক্রমণটি চালানো হয়।
কিয়েভের বিশেষ বাহিনীর কমান্ড বলেছে, মস্কোর বাহিনী ‘শহর ধ্বংস করা’ অব্যাহত রেখেছে।
যুদ্ধের শুরুতে মারিউপোল অবরোধের সময়সহ গত বছর ইউক্রেনে পূর্ণ মাত্রায় আগ্রাসন শুরু করার পর থেকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে বেশ কয়েকবার সাদা ফসফরাস ব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়েছে।
সাদা ফসফরাস একটি মোমের মতো পদার্থ, যা অক্সিজেনের সংস্পর্শে জ্বলে ওঠে ও ধোঁয়ার কুণ্ড তৈরি করে।
রাসায়নিকটি ‘এর আঘাতের তীব্রতার জন্য কুখ্যাত’ বলে সতর্ক করেছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)।
এটি ৮০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় জ্বলে এবং মানুষের মাংস বাজেভাবে পুড়ে ফেলে। এটি অত্যন্ত আঠালো এবং অপসারণ করা কঠিন, এবং ব্যান্ডেজ সরানোর পরও জ্বালাপোড়া করে।
আরও পড়ুন: জাপানে ভূমিকম্পের পর ৫০টি আফটারশক!
রাশিয়া কিছু প্রচলিত অস্ত্রের কনভেনশনে সই করেছে, যা বেসামরিক এলাকায় অগ্নিসংযোগকারী অস্ত্রের ব্যবহার নিষিদ্ধ করে।
তবে এইচআরডব্লিউ বলছে, সাদা ফসফরাস এই চুক্তির আওতায় পড়ে না, কারণ এর প্রাথমিক উদ্দেশ্য হল ‘সামরিক অভিযান লুকানোর জন্য ধূম্রজাল তৈরি করা’।
এইচআরডব্লিউর মতে, ইরাক ও সিরিয়ায় আইএস যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে মার্কিন বাহিনীসহ অনেকেই ‘গত ১৫ বছরে বহুবার’ এই রাসায়নিক ব্যবহার করেছে।
একাত্তর/এসজে
