ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধ নিয়ে খবর প্রকাশের জন্য এ বছর সাংবাদিকতার ‘নোবেল’ হিসেবে খ্যাত পুলিৎজার পুরস্কার পেয়েছে বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)। একই কারণে পুরস্কৃত করা হয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসকেও।
সোমবার (৮ মে) এবারের পুলিৎজার পুরস্কার পাওয়া ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নাম ঘোষণা করা হয়। খবর রয়টার্সের।
পুলিৎজারে সবচেয়ে সম্মানজনক পুরস্কার হিসেবে ধরা হয় পাবলিক সার্ভিস (জনসেবা) অ্যাওয়ার্ডকে। চলতি বছর এই অ্যাওয়ার্ড পেয়েছে এপি। পাশপাশি ব্রেকিং নিউজ ফটোগ্রাফি বিভাগেও পুরস্কার পেয়েছে সংস্থাটি।
অন্যদিকে ইন্টারন্যাশনাল রিপোর্টিং (আন্তর্জাতিক বিষয়ে প্রতিবেদন) বিভাগ ছাড়াও এবার ইলাস্ট্রেটেড রিপোর্টিং অ্যান্ড কমেন্টারি বিভাগে পুরস্কার পেয়েছে নিউইয়র্ক টাইমস। এ নিয়ে পুলিৎজারের ইতিহাসে ১৩৭টি পুরস্কার পেলো সংবাদমাধ্যমটি।
পাবলিক সার্ভিস অ্যাওয়ার্ড পাওয়া এপির সাংবাদিকেরা হলেন- মিসতিসলাভ চেরনভ, ইভজেনি মালোলেতকা, ভাসিলিসা স্তেপানেঙ্কো ও লরি হিনান্ট। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনের মারিউপোল শহরে রাশিয়ার হামলার সময় সেখানে অবস্থান করছিলেন তারা। হামলায় শহরটিতে বেসামরিক লোকজনের নিহত হওয়ার তথ্য সংগ্রহ করেছিলেন এই চার সাংবাদিক।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে গর্ভপাত নিয়ে ধারাবাহিক সংবাদ প্রকাশ করায় এবার ন্যাশনাল রিপোর্টিং (জাতীয় বিষয়ে প্রতিবেদন) বিভাগে পুরস্কার পেয়েছেন ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদক ক্যারোলিন কিচেনার। ফিচার রাইটিং বিভাগে পুরস্কার পেয়েছেন একই প্রতিষ্ঠানের এলি স্যাসলো। তবে বর্তমানে তিনি নিউইয়র্ক টাইমসে কাজ করছেন।
এছাড়া লোকাল রিপোর্টিং (স্থানীয় বিষয়ে প্রতিবেদন) ও কমেন্টারি (মতামত)-দুটি বিভাগে পুলিৎজার পুরস্কার পেয়েছে আলাবামার সংবাদমাধ্যম এএল ডটকম। ব্রেকিং নিউজ ও ফিচার ফটোগ্রাফি দুই বিভাগে দুটি পুলিৎজার পুরস্কার পেয়েছে সংবাদমাধ্যম লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস। আর ইনভেস্টিগেটিভ রিপোর্টিং (অনুসন্ধানী প্রতিবেদন) বিভাগে পুরস্কারজয়ী হয়েছে মার্কিন দৈনিক দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।
সাংবাদিকতার ‘নোবেল’ হিসেবে খ্যাত পুলিৎজার পুরস্কার যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় পর্যায়ে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদক। ১৯১৭ সাল থেকে এ পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতা ছাড়াও সাহিত্য, সংগীত, নাটকে বিশেষ অবদানের জন্য এ পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির একটি বোর্ড প্রতিবছর পুরস্কার ঘোষণা করে। পুলিৎজার নামের এই হাঙ্গেরীয়-মার্কিন সাংবাদিকই পুলিৎজার পুরস্কারের প্রচলন করেছিলেন।
১৯১১ সালে মৃত্যুর সময় পুলিৎজার কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটিতে প্রচুর পরিমাণ অর্থ রেখে গিয়েছিলেন। তার অর্থের কিছু অংশ দিয়ে ১৯১২ সালে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা স্কুল গঠিত হয়েছিল। এই অর্থের মাধ্যমে ১৯১৭ সালের ৪ঠা জুন প্রথম পুলিৎজার পুরস্কারের ঘোষণা দেয়া হয়। বর্তমানে প্রতি বছরের এপ্রিল মাসে পুরস্কারটি ঘোষিত হয়। একটি স্বাধীন বোর্ড বিজয়ী নির্বাচন করে থাকেন। প্রতিবছর ২১টি ক্ষেত্রে এই পুরস্কার প্রদান করা হয়। পাবলিক সার্ভিস বিভাগে বিজয়ী স্বর্ণ পদক লাভ করেন।
একাত্তর/আরবিএস
