এক দশক পর সিরিয়াকে পুনরায় আরব লীগের সদস্যপদ ফিরিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ দেশটির নৃশংস গৃহযুদ্ধের পর এ ধরনের স্বাভাবিকতার যোগ্যতা রাখেন না।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র বেদান্ত প্যাটেল সোমবার সাংবাদিকদের বলেন, আমরা বিশ্বাস করিনা সিরিয়া এ সময়ে আরব লীগে পুনরায় প্রবেশের যোগ্যতা রাখে।
তিনি আরও বলেন, আসাদ সরকারের সাথে আমাদের সম্পর্ক স্বাভাবিক হবে না এবং মিত্রদেরও তা করতে সহায়তা করবো না।
এর আগে মার্কিন সরকার জানিয়েছিল, সিরিয়া সরকারের প্রতি তার নীতি পরিবর্তন করবে না যুক্তরাষ্ট্র। সিরিয়াকে একটি "দুর্বৃত্ত" রাষ্ট্র বলে মনে করে বাইডেন প্রশাসন।
সবশেষ রোববার সিরিয়াকে পুনরায় আরব লীগের সদস্যপদ ফিরিয়ে দিতে সম্মত হন লীগের সদস্য দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে মিশরের রাজধানী কায়রোতে ভোট দেন লীগের ২২ সদস্য দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা।
ভোটের আগে আরব লীগের একজন সিনিয়র কূটনীতিক মার্কিন নিউজ চ্যানেল সিএনএনকে জানিয়েছিলেন, আজকের বৈঠকে সিরিয়াকে আরব লীগের সদস্যপদ ফিরিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত হলে আগামী ১৯ মে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অনুষ্ঠেয় আরব শীর্ষ সম্মেলনে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদকে আমন্ত্রণ জানানো হবে।
সেক্ষেত্রে খুব সম্ভবত প্রেসিডেন্ট আসাদ আরব শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন বলেও জানিয়েছিলেন তিনি।
তবে পুতিন মিত্র আসাদের নেতৃত্বে সিরিয়ার সদস্যপদ ফিরে পাওয়াকে ভালো চোখে দেখছে না যুক্তরাষ্ট্র।
বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে চীন-রাশিয়া-সৌদি-ইরান দ্রুত শক্তি সঞ্চয় করছে। যা মার্কিন সরকার ও ন্যাটোর জন্য মাথা ব্যথার কারণ হিসেবে দেখা দিয়েছে।
'আরব লীগ' হলো আরব দেশসমূহের জোট। ১৯৪৫ সালের ২২ মার্চ এ লীগ গঠিত হয়। মিশরের রাজধানী কায়রোতে এর সদর দপ্তর অবস্থিত। লীগের ২২ সদস্য রাষ্ট্রগুলো হলো- কুয়েত, লেবানন, ফিলিস্তিন, কাতার, জর্দান, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, লিবিয়া, ওমান, সৌদি আরব, সিরিয়া, তিউনিসিয়া, ইরাক, আলজেরিয়া, মরোক্কো, সুদান, জিবুতি, মিশর, ইয়েমেন, মৌরিতানিয়া ও সোমালিয়া।
একাত্তর/আরবিএস
