টানা কয়েকমাসের যুদ্ধের ফলে বিধ্বস্ত বাখমুত শহরের কিছু অংশ পুনরুদ্ধারের দাবি করেছে ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনী। তবে এ দাবি অস্বীকার করেছে রাশিয়া।
শুক্রবার ইউক্রেনের উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রী হ্যানা মালিয়ার বলেন, ইউক্রেনের বাহিনী এক সপ্তাহে দুই কিলোমিটার অগ্রসর হয়েছে।
ইউক্রেনের এই দাবি বাখমুতে গতি পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। তবে বহু প্রত্যাশিত ইউক্রেনীয় পাল্টা আক্রমণের কোনও স্পষ্ট প্রমাণ এখন পর্যন্ত নেই।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, ফ্রন্টলাইনে বেশ কয়েকটি পয়েন্টে ‘ব্রেকথ্রু’ সম্পর্কে টেলিগ্রামে ব্যক্তিগত ঘোষণা বাস্তবতার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। বিশেষ সামরিক অভিযান অঞ্চলের সাধারণ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
বাখমুতে তীব্র রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের কারণে শহরটি প্রতীকীভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। যদিও অনেক বিশেষজ্ঞ এর কৌশলগত মূল্য নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
টেলিগ্রামে এক পোস্টে মালিয়ার বলেন, বাখমুত রাশিয়ার কাছে ‘প্রায় পবিত্র’ গুরুত্বের লক্ষ্যে পরিণত হয়েছে।
তিনি ক্রেমলিনকে একদিকে মিথ্যা জয়ের দাবি করার জন্য ও অন্যদিকে অস্ত্র ও গোলাবারুদের স্বল্পতার বিষয়ে মিথ্যা বলার অভিযোগে অভিযুক্ত করেছেন।
গত সপ্তাহের ‘বাস্তব পরিস্থিতি’ বর্ণনা করে মালিয়ার দাবি করেছেন, রাশিয়া উল্লেখযোগ্য ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে, কারণ ইউক্রেন কোনো অবস্থান না হারিয়ে দুই কিলোমিটার অগ্রসর হয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাশিয়ার পক্ষে যুদ্ধরত ওয়াগনার ভাড়াটে গোষ্ঠীর প্রধান ইয়েভজেনি প্রিগোজিন নিয়মিত রাশিয়ান সৈন্যদের বিরুদ্ধে বাখমুত পরিত্যাগ করার অভিযোগ করেন।
বাখমুত থেকে দূরে মেলিতোপোলের নির্বাসিত মেয়র শুক্রবার সকালে শহরের কেন্দ্রস্থলে একটি বড় বিস্ফোরণের কথা জানিয়েছেন, যা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে রাশিয়ার দখলে রয়েছে।
তবে কী কারণে বিস্ফোরণ ঘটেছে তা জানা যায়নি। ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনী জানিয়েছে, ইউক্রেনের বিমান বাহিনী বৃহস্পতিবার রাশিয়ার বাহিনী ও সামরিক সরঞ্জামের ওপর ১৪টি হামলা চালিয়েছে।
আরও পড়ুন: জামিনে মুক্তি পেলেন ইমরান খান
বিমান হামলার পাশাপাশি, ইউক্রেন বলেছে যে তারা ৯টি রাশিয়ান ড্রোন ধ্বংস করেছে এবং কয়েকডজন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে সফল হামলা চালিয়েছে- যার মধ্যে রয়েছে আর্টিলারি ইউনিট, একটি গোলাবারুদ গুদাম এবং বিমান প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম।
কয়েকমাসের অচলাবস্থার পর নতুন আগত পশ্চিমা অস্ত্রের সাহায্যে ইউক্রেনীয় পাল্টা আক্রমণ নিয়ে খোলাখুলিভাবে আলোচনা হয়েছে। তবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট বৃহস্পতিবার বলেছেন, এখনও হামলা শুরু করার সময় আসেনি।
একাত্তর/এসজে
