চীনের সঙ্গে বেড়ে চলা উত্তেজনার মাঝেও শান্তি বজায় রাখবেন বলে মন্তব্য করেছেন তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট সাই ইং-ওয়েন। তিনি বলেন, যুদ্ধ কোন বিকল্প নয়।
প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিজের মেয়াদের সপ্তম বার্ষিকীতে বক্তৃতার সময় সাই বলেন, চীনের বেসামরিক আক্রমণ এবং সামরিক হুমকির মুখেও তাইওয়ানের জনগণ শান্ত রয়েছেন। তারা আক্রমণাত্মক নন, যুক্তিবাদী। তাদের মধ্যে উত্তেজনা নেই। খবর ডয়চে ভেলের।
আগামী বছর তাইওয়ানে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। এমন সময়ে চীনের সঙ্গে দেশটির সম্পর্ক মোটেও সুবিধাজনক জায়গায় নেই।
বক্তৃতার সময় তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট সাই বলেন, যুদ্ধ কোন বিকল্প নয়। কোনো পক্ষ একতরফাভাবে অশান্তিপূর্ণ উপায়ে স্থিতাবস্থা পরিবর্তন করতে পারে না।
তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, তাইওয়ান চীনের চাপ বা উসকানির কাছে নতি স্বীকার করবে না।
প্রেসিডেন্ট জানান, তার মেয়াদকালে তাইওয়ানের বাসিন্দারা বিশ্বকে ‘আত্মরক্ষার জন্য তাইওয়ানের সংকল্প বুঝিয়ে দিয়েছে।’
তার কথায়, যদিও তাইওয়ানকে ঝুঁকি দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে। তবে তাইওয়ান কোনভাবেই কারও জন্য ঝুঁকি তৈরি করেনি। বরং আমরা ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার বিষয়টি নিয়ে দায়িত্বশীল। বিশ্বের গণতান্ত্রিক দেশ এবং সম্প্রদায়গুলিকে পাশে নিয়ে যৌথভাবে ঝুঁকি কমানোর কাজ করবে তাইওয়ান।
গণতান্ত্রিকভাবে শাসিত দ্বীপটিতে চীন সরকার সামরিক চাপ জোরদার করছে। এটিকে বেইজিং তার নিজস্ব এলাকা বলে দাবি করে।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদার একটি বিবৃতি অনুসারে, জাপানের হিরোশিমায় একটি শীর্ষ সম্মেলনে জি-সেভেন দেশগুলির নেতারা তাইওয়ান সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য তাদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
সাই বলেন, ‘তাইওয়ানের কর্মকর্তারা বর্তমানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সঙ্গে ৫০০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের অস্ত্র সহায়তার বিষয়ে আলোচনা করছে। তাদের লক্ষ্য কোভিডের ফলে যে দেরি হয়েছিল, তা মিটমাট করে নেয়া।’
তিনি তাইওয়ানের সাপ্লাই চেইনের বৈশ্বিক তাৎপর্যের ওপর জোর দিয়েছেন, যা উন্নত সেমিকন্ডাক্টর চিপ উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। দেশের শীর্ষস্থানীয় চিপ প্রযুক্তি এবং গবেষণা ও উন্নয়ন কেন্দ্রগুলিকে ধরে রাখার অঙ্গীকার করেছেন সাই।
২০২৪ সালের জানুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে চীন থেকে আরো আগ্রাসী পদক্ষেপ আসতে পারে ভেবেই নিজেকে প্রস্তুত করছে তাইওয়ান। মেয়াদ সীমার কারণে পুনরায় নির্বাচনের জন্য দাঁড়াতে পারবেন না সাই।
আরও পড়ুন: ষষ্ঠ সপ্তাহে সংঘাত, খার্তুমের বাইরে বিমান হামলা
নির্বাচনে তাইওয়ানের প্রধান বিরোধী কুওমিনতাং (কেএমটি) দলের প্রতিনিধিত্বকারী নিউ তাইপেই সিটি মেয়র হাউ ইউ-ইহ শনিবার বলেন, ‘সাইয়ের নেতৃত্বে তাইওয়ানকে শান্তি বা যুদ্ধ কোন একটা বেছে নিতে হবে।’
তিনি ‘সংলাপ ও বিনিময়ের’ মাধ্যমে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষার অঙ্গীকার করেন।
একাত্তর/আরএ
