যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্ট থেকে পদত্যাগের পর সাবেক প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন তার পুরনো পেশা সাংবাদিকতায় ফিরলেন।
শুক্রবার প্রভাবশালী ব্রিটিশ ট্যাবলয়েড ডেইলি মেইল বরিস জনসনের কলামিস্ট হিসেবে যোগদানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। খবর: বিবিসি।
ডেইলি মেইলের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘আপনি বরিসকে পছন্দ করুন কিংবা না করুন তার কলাম আপনাকে পড়তে হবে। ওয়েস্টমিনস্টারসহ (ব্রিটিশ পার্লামেন্ট) বিশ্বের লাখ লাখ মানুষ, সবার জন্যই এটা প্রযোজ্য।’
এখন থেকে প্রতি শনিবার পত্রিকাটিতে বরিসের কলাম প্রকাশিত হবে বলে নিশ্চিত করেছে এই সংবাদমাধ্যম। লাভজনক এ চাকরিতে পত্রিকাটির পক্ষ থেকে একটি গাড়িও পাচ্ছেন প্রভাবশালী এ রাজনীতিক।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, কলামে যুক্তরাজ্যের বর্তমান সরকার ও প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাকের নানান পদক্ষেপ বিষয়ে নিজের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরতে পারেন বরিস।
ইতিমধ্যে শুক্রবার বিকেলে ডেইলি মেইলের অনলাইনে প্রকাশিত হয়েছে এই সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর সাপ্তাহিক কলাম।
তবে নতুন এ চাকরি নেয়ার ক্ষেত্রেও নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগ উঠেছে বরিসের বিরুদ্ধে। যুক্তরাজ্যে মন্ত্রিত্ব ছাড়ার দুই বছরের মধ্যে চাকরি নিতে হলে অ্যাডভাইজরি কমিটি অন বিজনেস অ্যাপয়েন্টমেন্টের (অ্যাকোবা) অনুমতি নিতে হয়। কিন্তু বরিস অ্যাকোবার সাথে এ বিষয়ে কোন পরামর্শ করেনি বলে অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে বরিসকে নীতি লঙ্ঘনের অভিযোগে চিঠিও দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে অ্যাকোবা।
নানা ‘কেলেঙ্কারির’ জনক জনসনের ক্যারিয়ার শুরু হয়েছিল সাংবাদিকতা দিয়ে। ডেইলি টেলিগ্রাফের ব্রাসেলস সংবাদদাতা হিসেবে কাজ করতে গিয়ে তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) তীব্র সমালোচক হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিলেন। ব্রেক্সিটের পক্ষে লড়তে শুরু করেছেন তখন থেকেই।
গত ৯ জুন এক বিবৃতি দিয়ে পার্লামেন্ট থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন জনসন। এর আগে পার্টিগেট কেলেঙ্কারির কারণে গেল বছর প্রধানমন্ত্রীত্বও ছাড়তে হয়েছিল তাকে।
আরও পড়ুন: চাঁদ কেন ধীরে ধীরে পৃথিবীর কাছ থেকে দূরে সরে যাচ্ছে?
১৯৮৭ সালে টাইমস ম্যাগাজিনের প্রতিবেদক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সাবেক ছাত্র। কিন্তু কোনো এক প্রতিবেদনে মনগড়া মন্তব্য দেয়ার কারণে সেই চাকরি হারাতে হয় তাকে। একসময় রাজনীতি আর সাংবাদিকতা একসঙ্গে চালিয়েছিলেন তিনি। সংসদ সদস্য এবং স্পেক্টেটর ম্যাগাজিনের সম্পাদকের দায়িত্ব একসঙ্গে সামলেছেন জনসন। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগে পর্যন্ত ডেইলি টেলিগ্রাফে নিয়মিত কলামও লিখেছেন তিনি।
একাত্তর/জো
