বাংলাদেশ থেকে ডেঙ্গু জীবাণু নিয়ে কেউ সীমান্ত পেরিয়ে পশ্চিমবঙ্গে ঢুকছেন কী না, তার ওপরে নজর রাখতে সীমান্তের অভিবাসন কেন্দ্রগুলিতে ডেঙ্গুর রক্ত পরীক্ষা করার প্রস্তাব দিয়েছে কলকাতা কর্পোরেশন।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশ থেকে ডেঙ্গু আক্রান্ত কেউ রাজ্যে আসছেন কী না, তা জানতে সীমান্তে রক্ত পরীক্ষার প্রস্তাবের কোনও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। খবর: বিবিসি বাংলা।
বাংলাদেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভয়াবহ হওয়ার পর এবার পশ্চিমবঙ্গেও ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে। গত ১২ দিনে পশ্চিমবঙ্গে অন্তত সাতজনের মৃত্যু হয়েছে, আক্রান্ত তিন হাজারেরও বেশি।
কলকাতার বাইরের জেলাগুলোতেও খুব দ্রুত ডেঙ্গু ছড়াচ্ছে বলে রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরের সূত্রগুলো জানিয়েছে।
কলকাতার ডেপুটি মেয়র ও স্বাস্থ্য বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত মেয়র পারিষদ অতীন ঘোষ বলছেন, পার্শ্ববর্তী দেশ বাংলাদেশে ব্যাপক হারে ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়েছে। আবার নিয়মিত বহু মানুষ বাংলাদেশ থেকে কলকাতায় আসেন। তাদের মাধ্যমে যাতে কলকাতায় ডেঙ্গু সংক্রমণ না ছড়ায়, সেজন্যই সীমান্তে অভিবাসন কেন্দ্রে রক্ত পরীক্ষা করা উচিত।
তিনি এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, মানুষের শরীর ডেঙ্গু ভাইরাসের বাহক। কোনও মানুষ হয়তো ডেঙ্গু নিয়ে এখানে আসছেন। এইরকম একটি লোককে যদি এখানকার এডিস মশা কামড়ায়- তাতে এখানকার আরও বেশ কিছু মানুষের মধ্যে সংক্রমিত হবে।
‘সেই কারণেই আমরা চাইছি যে অভিবাসন পয়েন্টে যেন রক্ত পরীক্ষা হয়। রাজ্য সরকারকে আমরা চিঠি দিয়ে অনুরোধ করব যেন তারা এ বিষয়ে কেন্দ্রের সঙ্গে কথা বলে’ , বলেন তিনি।
স্থল আর বিমানবন্দর দুই জায়গাতেই বাংলাদেশিদের রক্ত পরীক্ষার প্রস্তাব পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
তবে সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ড. সায়ন চক্রবর্তী বলেন, এরকম একটা প্রস্তাবের কোনও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।
আরও পড়ুন: ভারতের চাল রপ্তানি নিষেধাজ্ঞায় বিপদে উত্তর আমেরিকা
তার কথায়, ‘এটি কোভিডের মতো নতুন কোনও ভাইরাস নয় যে সীমান্তে পরীক্ষা করে সংক্রমণ আটকানো যাবে। বাংলাদেশে যেরকম ব্যাপকভাবে ডেঙ্গু হচ্ছে, তাতে এটা সেকেন্ডারি ডেঙ্গু বলেই মনে হচ্ছে’।
‘সেখান থেকে ভাইরাস নিয়ে যদি কেউ এদিকে আসে, তাতে যে সিভিয়ার ডেঙ্গু ছড়াবে পশ্চিমবঙ্গে, তার কোনও মানে নেই। এখানকার ভাইরাস থেকেও দ্বিতীয়বার কারও ডেঙ্গু হতে পারে আর সেক্ষেত্রে সিভিয়ার হওয়ারই সম্ভাবনা থাকে’ ।
একাত্তর/এসজে
