১৯৮৬ সালে নিখোঁজ হওয়া এক সুইস পর্বতারোহীর দেহাবশেষ পাওয়া গেছে গলে যাওয়া হিমবাহের নিচে।
শুক্রবার বিবিসি জানায়, সুইজারল্যান্ডের বিখ্যাত ম্যাটারহর্ন পর্বতের কাছে একটি হিমবাহের নিচে পাওয়া মানব দেহাবশেষকে ১৯৮৬ সাল থেকে নিখোঁজ জার্মান পর্বতারোহীর বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আলপাইন হিমবাহগুলো দ্রুত গলে যাওয়ার ফলে অনেকগুলো গোপন রহস্য উদ্ঘাটনের মধ্যে এই আবিষ্কারটি সর্বশেষ।
এই মাসের শুরুর দিকে জারমাটের উপরে থিওডুল হিমবাহর নিচে পর্বতারোহীরা এই দেহটি খুঁজে পান। তারা বরফের মধ্যে একটি হাইকিং বুট এবং ক্র্যাম্পন দেখে জায়গাটি তল্লাশি করেন।
ডিএনএ বিশ্লেষণ করার পর জানা যায়, মৃতদেহটি একজন জার্মান পর্বতারোহীর। যিনি ৩৭ বছর আগে নিখোঁজ হয়েছিলেন।
তিনি নিখোঁজ হওয়ার পর সেসময় বিশাল তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান চালিয়েও তার কোনো হদিস পাওয়া যায়নি। তবে পুলিশ এই পর্বতারোহীর নাম প্রকাশ করেনি।
আলপাইন হিমবাহ উষ্ণ আবহাওয়ার কারণে গলে যাচ্ছে। ১৯৮০ পর্যন্ত থিওডুল তার প্রতিবেশী গর্নার হিমবাহের সাথে সংযুক্ত ছিল। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এই হিমবাহ দুটি এখন আলাদা হয়ে গেছে।
প্রায় প্রতি গ্রীষ্মেই গলে যাওয়া বরফ থেকে কয়েক দশক ধরে হারিয়ে যাওয়া অনেককিছু খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে। গত বছর ১৯৬৮ সালে বিধ্বস্ত হওয়া একটি বিমানের ধ্বংসাবশেষ আলেশ হিমবাহতে খুঁজে পাওয়া যায়।
২০১৫ সালে ম্যাটারহর্ন হিমবাহের নিচে দুই জাপানি পর্বতারোহীর মৃতদেহ আবিষ্কৃত হয়। যারা ১৯৭০ সালে তুষারঝড়ে নিখোঁজ হয়েছিলেন।
গলে যাওয়া বরফের কারণে গত বছর সুইজারল্যান্ড এবং ইতালির মধ্যে সীমান্ত পরিবর্তন হয়ে গেছে। ইতালির বিখ্যাত রিফুজিও গাইড ডেল সারভিনো নামে একটি পর্বত লজ স্কিয়ার এবং হাইকারদের অনেক প্রিয় জায়গা।
হিমবাহ গলে যাওয়ার কারণে এটি এখন সুইজারল্যান্ডের সীমানার ভেতরে রয়েছে। সুইস এবং ইতালীয় সরকারের মধ্যে আলোচনা চলছে কিভাবে সীমানা পুনরায় নির্ধারণ করা যায়।
আলপাইন হিমবাহ ইউরোপের পরিবেশের অন্যতম চাবিকাঠি। এই হিমবাহ শীতে তুষার সঞ্চয় করে ইউরোপীয় নদী যেমন রাইন এবং দানিউবকে ভরাট করে, ফসল ফলানোর জন্য বা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র শীতল করার জন্য পানি সরবরাহ করে।
গত দুই বছর ধরে রাইন নদীতে পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় মালবাহী জাহাজ চলাচল ব্যাহত হয়েছে। এসব জাহাজ হল্যান্ড থেকে জার্মানি হয়ে সুইজারল্যান্ডে মালামাল সরবরাহ করে।
গলিত বরফের পানি নদীগুলোকে শীতল করে। তা নাহলে নদীর পানি খুব গরম হয়ে যায় এবং মাছ মারা যায়।
আরও পড়ুন : উপকূলে বনায়নে পাঁচ কোটি গাছ লাগাবে সৌদি আরব
প্রায় এক বছর আগে, সুইস হিমবাহ বিশেষজ্ঞরা বরফ গলে যাওয়ার পরিমাণ দেখে হতবাক হয়ে গিয়েছিলেন। ১৯৩১ সাল থেকে হিমবাহগুলো তাদের অর্ধেক আয়তন হারিয়ে ফেলেছে। যা বিজ্ঞানীদের পূর্বাভাসের চেয়ে অনেক দ্রুতগতিতে ঘটছে। এমন চলতে থাকলে এই শতাব্দীর শেষের দিকে প্রায় সমস্ত আলপাইন হিমবাহ ধ্বংস হয়ে যাবে।
একাত্তর/পিএজে
