নাইজারে গেলো সপ্তাহের সেনা অভ্যুত্থানকে প্রতিহত করতে দেশটিতে সামরিক হস্তক্ষেপের পরিকল্পনা করছেন পশ্চিম আফ্রিকার নেতারা। আফ্রিকার ১৫ দেশের জোট ইকোনোমিক কমিউনিটি অব ওয়েস্ট আফ্রিকান স্টেটস (ইকোয়াস) এরইমধ্যে নাইজারের জান্তাকে সময় বেঁধে দিয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে রাশিয়ার ভাড়াটে সেনাদল ওয়াগনার গ্রুপের সহায়তা চেয়েছে নাইজারের সেনাবাহিনী। শনিবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে আল জাজিরা।
সোফান সেন্টারের একজন সাংবাদিক এবং সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ওয়াসিম নাসর, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে জানিয়েছেন, এ অভ্যুত্থানের অন্যতম নেতা জেনারেল সলিফু মোদি প্রতিবেশী দেশ মালিতে সফরের সময় ওয়াগনার গ্রুপের কাছে অনুরোধটি করেছিলেন।
তিনি আরও জানান, ফরাসি টেলিভিশন ফ্রান্স ২৪ প্রথম এ বিষয়ে খবর প্রকাশ করে। পরে মালির তিনটি সূত্র ও একজন ফরাসি কূটনীতিক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ওয়াসিমের মতে, ক্ষমতায় টিকে থাকতে নাইজারের জান্তার ওয়াগনারকে প্রয়োজন। তবে এ বিষয়ে ওয়াগনার গ্রুপের অবস্থান সম্পর্কে কিছু জানাননি এ সাংবাদিক।

জেনারেল সলিফু মোদি
এর আগে আফ্রিকার ১৫ দেশের জোট ইকোয়াস নাইজারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে জানায়, সেনা অভ্যুত্থানের নেতারা রোববারের মধ্যে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বাজোমকে ক্ষমতা ফিরিয়ে না দিলে আরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে। পাশপাশি দেশটিতে সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি দেন পশ্চিম আফ্রিকার নেতারা।
নাইজারের সামরিক অভ্যুত্থানকে পরোক্ষভাবে সমর্থন জানিয়ে প্রতিবেশী দুই দেশ বুরকিনা ফাসো ও মালি বলছে, নাইজারে যেকোনো সামরিক হস্তক্ষেপ তাদের দুই দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার শামিল।
গেলো ২৬ জুলাই প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বাজোমকে অবরুদ্ধ করে এক সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করে নাইজারের প্রেসিডেন্সিয়াল গার্ডের সদস্যরা। পরে সেনাবাহিনীর বিশেষ এ শাখার প্রধান জেনারেল আব্দুর রহমান চিয়ানি নিজেকে নাইজারের প্রধান হিসেবে ঘোষণা করেন।
একাত্তর/আরবিএস
