বার্ষিক আলোকবর্তিকা উৎসবে মেতে উঠেছে চীনের সিচুয়ান প্রদেশের ই গোষ্ঠীর বাসিন্দারা। এ উৎসবে মূলত অনুকূল আবহাওয়া, ভালো ফসল উৎপাদন আর পরিবারের সবার সুস্থতা কামনা করে প্রার্থনা করেন স্থানীয়রা। নাচ, গান আর চোখ ধাঁধানো আলোর উৎসবে অংশ নিতে প্রতিবছরের মতো এবারও সেখানে জড়ো হন পর্যটকরা।
বাদ্যের তালে তালে নাচছে সবাই। হাতে হাতে আলোকবর্তিকায় যেন রাতের আধারে এক ঘোর লাগানো সৌন্দর্য। আছে নারী, পুরুষ, শিশু আর বৃদ্ধও। এদের বেশিরভাগই স্থানীয় জাতিগোষ্ঠী ই সম্প্রদায়ের মানুষ। বৃহস্পতিবার চীনের সিচুয়ার প্রদেশের সিচাং শহরে হয়ে গেলো এমনই চোখ ধাঁধানো বার্ষিক আলোকবর্তিকা উৎসব।
প্রতি বছর ষষ্ঠ চন্দ্রমাসের ২৪ তারিখে ই জাতিগোষ্ঠীর সবচেয়ে বড় ঐতিহ্যবাহী এই উৎসব উদযাপন করা হয়। মূলত আলোকবর্তিকা উৎসবে অনুকূল আবহাওয়া, ভালো ফসল উৎপাদন আর পরিবারের সবার সুস্থতা কামনা করে প্রার্থনা করেন স্থানীয়রা।
প্রাচীন যুগে বন্য পশুপাখি লোকালয় থেকে দূরে রাখতে আগুন জ্বালানো হতো। এছাড়া প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে বাঁচতেও প্রার্থনা করা হতো আগুন জ্বালিয়ে। সেখান থেকেই বার্ষিক এই প্রার্থনার উৎসব শুরু হয় বলে জানান ই সম্প্রদায়ের মানুষজন। ই ছাড়াও নাক্সি ও বাই জাতিগোষ্ঠীর মানুষজনও আলোকবর্তিকা উৎসবে অংশ নেন।

তারা বলেন, আমাদের পূর্বপুরুষরা এই উৎসব পালন করে এসেছেন। আমরাও তাদের স্মরণে প্রতিবছর আলোকবর্তিকা উৎসব করি। কোন বছরই এর ব্যতিক্রম হয় না। এটি আমাদের জন্য প্রাণের উৎসব। ই জাতিগোষ্ঠীর কাছে এটি খুবই পবিত্র ও ঐতিহ্যবাহী একটি দিন।
উৎসবে ক্যাম্প ফায়ার ছাড়াও বুলফাইটিং, আর রেসলিংয়ের মতো প্রতিযোগিতার আয়োজনও ছিলো দেখার মতো। ব্যতিক্রমী এই উৎসব দেখতে প্রতিবছরই বহু পর্যটকেরও সমাগম হয়। এদের একজন বলেন, ই সম্প্রদায়ের মানুষের আতিথেয়তায় আমি মুগ্ধ। এই উৎসবে আসা আমার জন্য একটি দারুণ অভিজ্ঞতা।
আরও পড়ুন: চীনের গোয়েন্দাদের হাতে ধরা সিআইএ’র চীনা গুপ্তচর
উৎসবের শেষ ভাগে প্রিয়জনের জন্য ভালোবাসা প্রকাশ করেন অংশগ্রহণকারীরা। এদিকে, এই উৎসবকে নিরবচ্ছিন্ন করতে সিচাং শহরের গুরুত্বপূর্ণ সব রাস্তাঘাটে যান চলাচল সাময়িক বন্ধ রাখে কর্তৃপক্ষ। ফলে স্থানীয়দের পাশাপাশি পর্যটকরাও এতে পরিপূর্ণ আনন্দ করার সুযোগ পান।
একাত্তর/এসজে
