রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধরত ইউক্রেনে দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে ঘুষ গ্রহণ এবং সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে সক্ষম এমন প্রাপ্ত বয়স্কদের দেশ থেকে পাচারের অভিযোগে আঞ্চলিক সামরিক নিয়োগ কর্মকর্তাদের বরখাস্ত করা হয়েছে।
শুক্রবার দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেছেন, ৩০ জনের বেশি কর্মকর্তাকে ফৌজদারি অভিযোগের মুখোমুখি করা হয়েছে এবং সব আঞ্চলিক সামরিক নিয়োগ কর্মকর্তাদের অপসারণ করা হয়েছে।
রাজধানী কিয়েভে জেলেনস্কি সেনা নিয়োগের অনিয়মের কথা উল্লেখ করেন। তিনি এমন একটি সময়ে সেনা কর্মকর্তাদের বহিস্কার করেছেন, যখন রাশিয়ার সাথে যুদ্ধ একটি জটিল পর্যায়ে প্রবেশ করেছে এবং দেশের সেনাবাহিনীতে নতুন নিয়োগের প্রয়োজন।
জেলনস্কি বলেন, তাদের বিরুদ্ধে নগদ ও ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে ঘুষ গ্রহণ বা লড়াইয়ের যোগ্য লোকদের ইউক্রেন ছেড়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে সহযোগিতা করার মতো অভিযোগ রয়েছে। ঘুষ গ্রহণ ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে সেনা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ১১২টি মামলা হয়েছে।
ভিডিও বার্তায় জেলেনস্কি জানান, এই সিস্টেমটি এমন লোকদের দ্বারা চালিত হওয়া উচিত যারা ঠিক জানে যে যুদ্ধ কী এবং কেন যুদ্ধের সময় ঘুষ নেয়া রাষ্ট্রদ্রোহী কাজ। যাদের বরখাস্ত করা হয়েছে তাদের জায়গায় প্রবীণ যোদ্ধা এবং সম্মুখ যুদ্ধে আহত সেনাদের বসানো হবে।
এর আগে ২০১৯ সালে প্রথমবারের মতো প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে দেশজুড়ে মহামারির মতো ছড়িয়ে পড়া দুর্নীতির মূলোৎপাটনের ঘোষণা দিয়েছিলেন। সম্প্রতিও তিনি একাধিকবার দুর্নীতির বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে লড়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
আরও পড়ুন: সিরিয়ায় সামরিক বাসে আইএস হামলায় নিহত বেড়ে ৩৩
দুর্নীতির অভিযোগে শীর্ষ কর্মকর্তাদের বরখাস্ত করা এই প্রথম নয়। এর আগে জেলেনস্কি চলতি বছরের জানুয়ারিতে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মন্ত্রিসভার সদস্য ভাসিল লজিনস্কিকে বরখাস্ত করেছিলেন। এর ধারাবাহিকতায় তিনি দেশটির সেনাবাহিনীকেও ছাড় দিচ্ছেন না।
