মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলে একটি জেড খনিতে মাটি ধসে অন্তত ৩০ জন নিখোঁজ হয়েছেন বলে জানা গেছে। কাচিন রাজ্যের পার্বত্য শহর হপাকান্তে বিশ্বের বৃহত্তম এবং সবচেয়ে লাভজনক জেড খনি রয়েছে।
সোমবার বিবিসি জানায়, রোববার স্থানীয় সময় বেলা সাড়ে তিনটার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে অনেকেই পাহাড়ের পাশে কাদা খননকারী স্থানীয় বাসিন্দা বলে ধারণা করা হচ্ছে, যাদের অনেকেই পরিত্যক্ত খনির গর্তে কাজ এবং বাস করেন।
মিয়ানমারে বর্ষাকালে মে থেকে অক্টোবরের মধ্যে ভারী বৃষ্টিপাত হলে এই এলাকায় প্রাণঘাতী ভূমিধস সাধারণ ঘটনা।
২০২০ সালের জুলাই মাসে একই এলাকায় ভূমিধসে কমপক্ষে ১৬২ জন মারা যান। ২০১৫ সালে আরেকটি দুর্ঘটনায় ১১০ জনেরও বেশি লোকের মৃত্যু হয়।
তীব্র বৃষ্টির ফলে ১৫০ মিটারের বেশি উচ্চতায় খনি কোম্পানির খননকাজের পর ফেলে যাওয়া পাথর আলগা হয়ে যায়। এতে ময়লা এবং ধ্বংসাবশেষ পাহাড়ের গা বেয়ে নিচে থাকা শ্রমিকদের ওপর পড়ে।
জীবিতরা কাদা, পাথর এবং বন্যার পানির একটি প্রাচীর তাদের ওপর ধসে পড়ার কথা বর্ণনা করেছেন।
মিয়ানমারের এই অংশ শত শত অনিয়ন্ত্রিত খনি দ্বারা ক্ষতবিক্ষত। এগুলো দেশের অন্যান্য অংশ থেকে বিপুল সংখ্যক অভিবাসী শ্রমিকদের আকর্ষণ করে, যারা জেডের সন্ধান করতে আসেন। এই জেড সাধারণত চীনের কাছে বিক্রি হয়।
একজন উদ্ধারকর্মী অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে জানিয়েছেন, এ দুর্ঘটনায় ৩৪ জন নিখোঁজ ও আটজন আহত হয়েছেন এবং আহতদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে, তবে কিছু খনি শ্রমিক জেডের সন্ধানের আশায় ইতোমধ্যে ঘটনাস্থলে ফিরে এসেছেন।
আরও পড়ুন: মরক্কোতে ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়ালো তাপমাত্রা
নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি আরও জানান, এখনও কোনো মরদেহ খুঁজে পাওয়া যায়নি।
জেড মাইনিং মিয়ানমারের সামরিক সরকারের রাজস্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস। এসব খনি সশস্ত্র গোষ্ঠী কাচিন ইন্ডিপেন্ডেন্স আর্মিকেও অর্থায়ন করে।
একাত্তর/এসজে
