বন্দি বিনিময়ের অংশ হিসেবে ইরানে বছরের পর বছর ধরে জেলে থাকা পাঁচ মার্কিন নাগরিক নিজ দেশে ফিরে যাচ্ছেন। ইরানের রাজধানী তেহরান থেকে কাতারের একটি জেটে চার পুরুষ ও একজন নারী যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্য উড়ে গেছেন। এই পাঁচজনের কাছে ইরানি পাসপোর্টও রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স, সংবাদমাধ্যম সিএনএন ও বিবিসি বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এছাড়া দেশে ফেরার জন্য বর্তমানে ওই পাঁচ মার্কিন নাগরিক এখন কাতার এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে আছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।
পাঁচ নাগরিককে ফিরে পেতে বড় ধরনের অর্থ দিতে হয়েছে আমেরিকাকে। দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে তেল বিক্রি করে ইরানের ছয় বিলিয়ন ডলার পাওনা আটকে দিয়েছিলো সিউল। সেই পাওনা দোহার একটি ব্যাংকে জমা পড়ার পরই, চুক্তি অনুযায়ী আটক পাঁচ মার্কিন নাগরিককে মুক্তি দেয় তেহরান।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন অনেক দিন থেকেই ইরানি কারাগারে বন্দি ফিরিয়ে আনতে চাইছিলেন। তবে এর জন্য শুধু অর্থ ছাড়ই নয়, কাতারের বন্দি বিনিয়ম চুক্তিটি সুষ্ঠুভাবে প্রতিপালনের পর, একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে বন্দী পাঁচ ইরানীকে মুক্তি দেওয়া হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
কাতারের মধ্যস্থতায় আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে বন্দি বিনিময় চুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু হয় ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে। আলোচনার সঙ্গে যুক্ত থাকা একটি সূত্রের মতে, দোহায় আমেরিকান এবং ইরানি প্রতিনিধি দলের সাথে কমপক্ষে ৯ দফা আলোচনা হয়েছে। এ সময় উভয়পক্ষ আলাদা হোটেলে অবস্থান করতেন।
এ চুক্তির ফলে দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে তেল বিক্রি থেকে অর্জিত ইরানের অর্থকে মুক্ত হবে। যদিও কাতারের ব্যাঙ্কগুলোতে জমা করা তহবিল শুধুমাত্র তৃতীয় পক্ষের দ্বারা খাদ্য ও ওষুধের মতো পণ্য কেনার জন্য ব্যবহার করা যাবে। বন্দী ও অর্থ বিনিময়ের এই প্রক্রিয়াটি জটিল ও বিতর্কিত।
মার্কিন রিপাবলিকান ও ইরানী অধিকারকর্মীরা চুক্তিটির নিন্দা করে বলছেন, এটি কেবল আরও জিম্মি করাকে উৎসাহিত করবে। তবে, চুক্তিটি বন্দী ও তাদের প্রিয়জনদের জন্য বিশাল স্বস্তি ও আনন্দের বলে বলা হচ্ছে।
