অর্থনীতিতে সদ্য নোবেলজয়ী ক্লডিয়া গোল্ডিন আরেক নোবেলজয়ীর মৃত্যু নিয়ে গুজব ছড়িয়েছেন। তার নামের এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডল থেকে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনের মৃত্যুর খবর দিয়ে নিজের বেদনার কথা জানানো হয়েছে।
ক্লডিয়া গোল্ডিনকে ভিত্তি ধরে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম অমর্ত্য সেনের মৃত্যু খবর দিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছে। শোক প্রকাশ করে বিবৃতিও দিয়ে ফেলেন বিজেপির এক নেতা।
তবে মৃত্যুর ওই খবর সঠিক নয় এবং তা পুরোপুরি ভুয়া বলে ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকাকে জানিয়েছেন অমর্ত্য সেনের কন্যা নন্দনা দেব সেন।
‘আমি অনুরোধ করছি, এ সব গুজব ছড়ানো বন্ধ রাখুন। বাবা ভাল আছেন। সুস্থ আছেন। আমি কাল (সোমবার) রাত পর্যন্ত তাঁর সঙ্গেই ছিলাম,’ আনন্দবাজার অনলাইনকে বলেছেন তিনি।
নন্দনা দেব সেন নামের একটি ফেসবুক পেইজ ও এক্স থেকে অমর্ত্য সেনের ছবি প্রকাশ করে লেখা হয়েছে, ‘বাবাকে নিয়ে ভুয়া খবর ছড়িয়েছে। ভালো আছেন, সুস্থ আছেন।’
মঙ্গলবার সন্ধ্যার আগে আচমকাই ছড়িয়ে পড়ে যে, অমর্ত্য সেন মারা গেছেন। বাংলাদেশের অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ তথ্য ছড়িয়েছেন।
আনন্দবাজার লিখেছে, সেই খবরের ‘সূত্র’ ছিল সদ্য অর্থনীতিতে নোবেলজয়ী ক্লডিয়া গোল্ডিন। তাঁর এক্স হ্যান্ডল থেকে বলা হয়, ‘মর্মান্তিক খবর! আমার প্রিয়তম অধ্যাপক অমর্ত্য সেন কয়েক মিনিট আগে প্রয়াত হয়েছেন। ভাষা নেই!’
এই প্রকাশ্য বিবৃতিটি সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে। তা দেখেই আনন্দবাজার অনলাইন সরাসরি যোগাযোগ করে নন্দনার সঙ্গে। নন্দনা সঙ্গে সঙ্গেই জানান, অমর্ত্য ভাল রয়েছেন। তিনি বস্টনে রয়েছেন। নন্দনা রয়েছেন নিউ ইয়র্কে।
নন্দনা সেন বলেন, ‘‘এই গুজব ছড়ানো বন্ধ হোক। গত সপ্তাহটা আমরা বাবার সঙ্গেই ছিলাম। তাঁর সঙ্গেই কাটিয়েছি। তিনি একেবারেই সুস্থ আছেন। প্রাণশক্তিতে ভরপুর রয়েছেন। নিজের নতুন বই নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন।’
সদ্য নোবেলজয়ী ক্লডিয়ার প্রথম পোস্টের ৪৫ মিনিট পর ফের দ্বিতীয় একটি পোস্ট করা হয় এক্স হ্যান্ডলে। সেখানে লেখা হয়, ‘এই অ্যাকাউন্টটি ভুয়ো। ইটালিয়ান সাংবাদিক টোমাসো ডেবেনেডেট্টি এই অ্যাকাউন্টটি তৈরি করেছেন।’
আর এর মধ্যেই ক্লডিয়ার পোস্টের উপর ভিত্তি করে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে অমর্ত্য সেনের মৃত্যুর খবর প্রকাশিত হতে শুরু করে।
এক্স হ্যান্ডলে বাঙালি এই নোবেলজয়ীর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেন বিজেপির পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। তিনি লেখেন, ‘আপনার জীবন এবং কাজ চিরদিনের জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকবে এবং পরবর্তী প্রজন্মকে অনুপ্রেরণা জোগাবে।’
তবে কয়েক মিনিটের পরেই সেই পোস্ট ডিলিট করে দেন সুকান্ত।
