বিশ্ব মানবাধিকার দিবসে আলফ্রেড নোবেলের মৃত্যুবার্ষিকীতে নরওয়ের অসলোতে শান্তিতে নোবেল জয়ী ইরানের নারী অধিকার এবং মানবাধিকার আন্দোলনের মুখ নার্গিস মোহাম্মদীর হয়ে পুরস্কার গ্রহন করছেন তাঁর দুই যমজ সন্তান ছেলে আলি ও মেয়ে কিয়ানা রহমানি। খবর বিবিসি।
মানবাধিকার আন্দোলনের মুখ হিসাবে পরিচিত নার্গিস মোহাম্মদী ২০১৫ সাল থেকে তিনি ইরানের জেলে বন্দি। ফলে তাঁর হয়ে নোবেল পুরস্কার গ্রহণ করেন তাঁর যমজ সন্তানেরা। দেশটিতে নারীদের নিপীড়নের বিরুদ্ধে লড়াই, মানবাধিকার রক্ষা ও নিশ্চিতে ভূমিকা রাখায় শান্তিতে নোবেল পান নার্গিস।
গত দুই দশকের বেশিরভাগ সময়ই মোহাম্মদী বন্দিজীবন কাটিয়েছেন। ইরান সরকার তাকে গ্রেপ্তার করেছে ১৩ বার, পাঁচবার তাকে দোষী সাব্যস্ত করেছে। সব মিলিয়ে ৩১ বছরের জেল দেওয়া হয়েছে এই সাহসী নারীকে। শরিয়া আইনে ১৫৪টি বেত্রাঘাতের মত শাস্তিও পেতে হয়েছে তাকে।

নার্গিসকে গ্রেফতারের পর তাঁর ছেলে আলি ও মেয়ে কিয়ানার পক্ষে ইরানে থাকা সম্ভব হচ্ছিল না। পুলিশের হাজারো নিষেধাজ্ঞা, মানসিক নির্যাতনের মুখে কিশোর-কিশোরী ভাইবোন দেশ ছাড়ে। প্যারিসে রাজনৈতিক আশ্রয়ে আছে তারা। সেখান থেকে মায়ের পুরস্কার গ্রহণের জন্য নরওয়েতে পৌঁছান ভাই-বোন।
রোববার অসলোতে পুরস্কার গ্রহনের পর জেলে থেকে কৌশলে পাঠানো নার্গিসের একটি বার্তা পড়ে শোনান তার সন্তানা। সেখানে তিনি বলেন, ইরানের জনগণ নিষ্ঠার সঙ্গে দমন-পীড়ন ও কর্তৃত্ববাদকে জয় করবে। কোন সন্দেহ নেই, এটা নিশ্চিত। এ সময় ইরান সরকারকে ‘অত্যাচারী’ বলেও উল্লেখ করেন নার্গিস।
নার্গিস মোহাম্মদী বর্তমানে অপপ্রচার ছড়ানোর অভিযোগে কারাগারে রয়েছেন। তার স্বামী, রাজনৈতিক কর্মী তাগি রহমানি তাদের দুই সন্তানের সাথে প্যারিসে নির্বাসিত জীবনযাপন করেন এবং তারা বছরের পর বছর ধরে একে অপরকে দেখেননি। আলি ও কিয়ানা সবশেষ মাকে দেখেছেন চার বছর আগে।

ইরান থেকে পাচার করা ফরাসি ভাষায় লেখা বার্তায় নার্গিস মোহাম্মদী বলেন, আমি একটি কারাগারের উঁচু, ঠান্ডা দেয়ালের আড়াল থেকে এ বার্তাটি লিখছি। প্রতিরোধ বেঁচে আছে এবং সংগ্রাম মোটেও দুর্বল হচ্ছে না। প্রতিরোধ এবং অহিংসা হল আমাদের সর্বোত্তম কৌশল। এটি একই কঠিন পথ যা ইরানীরা আজ অবধি হেঁটেছে, তাদের ঐতিহাসিক চেতনা এবং তাদের সম্মিলিত ইচ্ছার জন্য ধন্যবাদ।
১৭ বছরের যমজ পুরস্কারটি সংগ্রহ করে, যার মধ্যে রয়েছে প্রায় এক মিলিয়ন পাউন্ডের সমপরিমাণ অর্থ, সনদ এবং একটি ক্রেস্ট। অসলোর সিটি হলে আয়োজিত পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রায় কয়েকশ অতিথি উপস্থিত ছিলেন। মঞ্চে নার্গিস মোহাম্মদীর জন্য একটি চেয়ার ফাঁকা রাখা হয়।
৫১ বছর বয়সী নার্গিস মোহাম্মদি সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মী। নারীদের হিজাব পরা বাধ্যতামূলক করা ও মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে কাজ করায় তাঁকে বেশির ভাগ সময় কারাগারে থাকতে হয়েছে। নার্গিস তেহরানের ইভিন কারাগারে বন্দী রয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রবিরোধী প্রচার চালানোসহ নানা অভিযোগ রয়েছে।

২০০৩ সালে শান্তিতে নোবেলজয়ী শিরিন এবাদির প্রতিষ্ঠান ডিফেন্ডার্স অফ হিউম্যান রাইটস সেন্টারে ভাইস প্রেসিডেন্টের দায়িত্বে রয়েছেন নার্গিস।
বর্তমানে ১০ বছর ৯ মাসের সাজা খাটছেন তিনি। তার ওপর ভ্রমণসহ অন্যান্য নিষেধাজ্ঞাও আছে। কিন্তু এত সব বাধা-বিপত্তি নার্গিসের সোচ্চার কণ্ঠকে দমাতে পারেনি।
