আজভ সাগরের উপর রাশিয়ার একটি সামরিক গুপ্তচর উড়োজাহাজ গুলি করে ভূপাতিত করার দাবি করেছে ইউক্রেন। যদি এই দাবি সত্য হয়, তাহলে সেটি হবে মস্কোর জন্য বড় আঘাত।
দেশটির সেনাপ্রধান জেনারেল ভ্যালেরি জালুঝনি বলেছেন, বিমানবাহিনী একটি এ ফিফটি দূরপাল্লার রাডার সনাক্তকারী বিমান এবং একটি এয়ার কন্ট্রোল সেন্টারকে পুরোপুরি ধ্বংস করতে পেরেছে। এ ব্যাপারে কোন প্রতিক্রিয়া দেয়নি রাশিয়া।
ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, সোমবার টেলিগ্রামে জেনারেল ভ্যালেরি জালুঝনি বলেন, ইউক্রেনীয় বিমান বাহিনী শত্রুদের একটি দূরপাল্লার রাডার শনাক্তকরণ উড়োজাহাজ এ-৫০ এবং উড়ন্ত এয়ার কন্ট্রোল সেন্টার আইএল-২২ ভূপাতিত করেছে। তিনি লেখেন, আজভ সাগরে বিমান বাহিনীর অভিযানের উপযুক্ত পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের জন্য আমি কৃতজ্ঞ।

একটি এ-৫০ উড়োজাহাজ দাম ৩৩০ মিলিয়ন ডলার বলে উল্লেখ করেছে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় । তবে কিয়েভের বিবৃতিতে বলা হয়নি কীভাবে উড়োজাহাজটি ধ্বংস করা হয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের বা তৃতীয় পক্ষ থেকে স্বতন্ত্রভাবে ইউক্রেনীয় দাবির সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে মন্তব্যের জন্য লিখিত অনুরোধে সাড়া দেয়নি।
গেলো বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি ব্রিফিংয়ে বলা হয়েছে, রাশিয়ার কাছে সম্ভবত ছয়টি অপারেশনাল এ-৫ সার্ভিসে রয়েছে। বিমানগুলো তৈরি কয়েক মিলিয়ন ডলার খরচ হতে পারে। ইউক্রেনের দাবি সত্যতা যাচাই করতে পারেনি বিবিসি।
রুশ কর্মকর্তারা বলেছেন, তাদের কাছে হামলা সম্পর্কে কোন তথ্য নেই। তবে রুশ ঘটনা সত্যি হলে এই ক্ষতি রাশিয়ার যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। সোভিয়েত আমলের শেষ দিকে রাশিয়ার এ-৫০ উড়োজাহাজ ব্যবহার শুরু করে। এটি একটি বড় আকারের উড়োজাহাজ। যা শত্রুদের উড়ান, জাহাজ ও মিসাইল কয়েকশ’ কিলোমিটার এলাকায় শনাক্ত করতে পারে। এতে আকাশপথে হামলার জন্য সতর্ক ব্যবস্থা রয়েছে। কয়েকজন রুশ সামরিক ব্লগার বলেছেন, এই বিমান ভূপাতিত হওয়া রুশ বিমানবাহিনীর জন্য বড় ক্ষতি। কারণ এমন উড়োজাহাজের সংখ্যা অল্প।
ফটো ফিচার: ১০০ দিনে গাজায় ইসরাইলি হামলায় ধ্বংসযজ্ঞ