গাজা উপত্যকায় সামরিক হামলা শুরুর পর, গেলো ১০০ দিনে দশ হাজারের বেশি বোমা ও মিসাইল ব্যবহার করেছে বলে দাবি করেছে ইসরাইল। এই সময়ে গাজাতে চালানো হয়েছে শত শত বিমান হামলা।
গাজার সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, হামাসের সঙ্গে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে গাজার ৫০ শতাংশের বেশি আবাসন এলাকা ধ্বংস হয়ে গেছে, বসবাসের অযোগ্য বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ইসরাইলি হামলা থেকে বাঁচতে গাজার উপত্যকায় বসবাস করা প্রায় ২০ লাখ বাসিন্দার মধ্যে ৮৫ শতাংশই বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়েছে। তবে এরিমধ্যে নিহতের সংখ্যা ২৪ হাজার ছাড়িয়েছে।

গাজায় ইসরাইলি বর্বরতা ও ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র অনুধাবনে ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থা বিবিসি গাজার খান ইউনিস, মাগাজি এবং রাফাহ শহরের উপর দিয়ে ড্রোন উড়িয়ে ভিডিও করেছে।

ড্রোন থেকে তোলা সেই সব ভিডিওতে ফুটে উঠেছে ইসরাইলি গোলায় বিধ্বস্ত গাজা উপত্যকার দৃশ্য। উপর্যুপরি বিমান হামলা, বোমা ফেলা আর মিসাইলের আঘাতে গাজা এখন কার্যত ধ্বংসপুরী।

১০০ দিনে ইসরাইলের হামলায় তছনছ হয়েছে গাজা। জাতিসংঘের হিসাবে উপত্যকাটির ৩ লাখ ৫৯ হাজার ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়েছে। সেখানে ২৩ লাখ বাসিন্দার মধ্যে ১৯ লাখই এখন অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত।

উপত্যকাজুড়ে মানবিক সংকটও চরমে। খাবার, পানি ও চিকিৎসা সরঞ্জামের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। গাজার ৩৬টি হাসপাতালের মধ্যে ১৫টি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে গেছে।

রোববার ফিলিস্তিন–ইসরাইল সংঘাতের ১০০তম দিনেও গাজায় নির্বিচার হামলা চালানো হয়। এই উপত্যকার মানুষ এখন স্বজন হারানোর বেদনার সঙ্গে নিজের প্রাণ বাঁচানো নিয়ে দুঃস্বপ্নের সময় পার করছেন।

উপত্যকাটিতে ইসরাইলের হামলায় নিহত হয়েছেন ২৩ হাজার ৯৬৮ ফিলিস্তিনি। আহত ৬০ হাজার ৫৮২ জন। তাদের বেশির ভাগই নারী ও শিশু।

গাজায় ইসরাইলি নৃশংসতার প্রতিবাদের উত্তাল বিশ্ব। ফিলিস্তিনিদের সমর্থন দিয়েছে বিভিন্ন দেশ, চলছে বিক্ষোভ। গেলো দু’দিনে বিক্ষোভ হয়েছে অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বের ৩০ দেশে।
