পাকিস্তানের রাজনীতিতে সব সময় সেনা বাহিনীর প্রচ্ছন্ন, কি সরাসরি ভূমিকা থাকে। দেশটি বেশিরভাগ সময় কেটেছে সেনাশাসনেও। এরই ধারাবাহিকতায় দেশটির রাজনীতিতেও জোর শেকড় গড়েছে দেশটির সেনা বাহিনী। বলা হয়, দেশটিতে মাঝে মধ্যে, গণতন্ত্র উঁকি দিলেও, সেটিতেও ভূমিকা রাখেন পাকিস্তানের উর্দি পোশাকধারীরা। সম্প্রতি শেষ হওয়া নির্বাচনেও সেনা হস্তক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে।
পাকিস্তানের রাজনীতিতে এবার নতুন বোমা ফাটালেন দেশটি ইসলামপন্থি দল জমিয়তে উলেমা-ই-ইসলামের (জেইউআই–এফ) আমির মাওলানা ফজলুর রেহমান। পাকিস্তানের একটি টেলিভিশনকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, পার্লামেন্টে যে অনাস্থা ভোটে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ক্ষমতাচ্যুত হয়েছিলো, সেটি উত্থাপন করা হয়েছিল সাবেক সেনাপ্রধান কামার জাভেদ বাজওয়ার নির্দেশনায়।

ওই সময়ের ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে ফজলুর রেহমান বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে অনাস্থা প্রস্তাবের বিপক্ষে ছিলাম। কিন্তু অন্য দলগুলোর চাপাচাপির মুখে আমি যদি না বলতাম, তাহলে আমি পিটিআই প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানকে রক্ষা করছি বলে আমার ওপর একটি বিশেষ তকমা লাগানো হতো। আর অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে তলে তলে সবচেয়ে বেশি সক্রিয় ছিলেন পিপিপি নেতা বিলওয়াল ভুট্টো জারদারি।

এখানে বলা রাখে ভালো যে, গেলো বছর ইমরান খান নেতৃত্বাধীন পাকিস্তান তেহেরিক–ই–ইনসাফ-পিটিআই সরকার উৎখাতের পর নওয়াজ শরীফের দল পিএমএল–এনের প্রেসিডেন্ট শাহবাজ শরীফের নেতৃত্বে জোট সরকার গঠন হয়, তাতে সবচেয়ে বড় সমর্থন দিয়েছিলো পিপিপি। ওই সরকারই ৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে গঠিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আগে ১৬ মাস পাকিস্তান শাসন করে।
কট্টর ইসলামপন্থি নেতা হিসেবে পরিচিত ফজলুর রেহমান বলেন, পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি) অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে তৎপরতা চালাচ্ছিলো। তখন সেই সময়কার সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই’য়ের প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ফাইজ হামিদ আমাকে বলেছিলেন যে, আমি যা চাই তা করতে পারি। কিন্তু তা এই ব্যবস্থার মধ্যেই করতে হবে। অর্থাৎ যা করার তা পার্লামেন্টের ভেতরেই হবে। রাজপথে কিছু করা যাবে না।

শুরুতে সেনা গোয়েন্দা প্রধানের কথা প্রত্যাখ্যান করার কথা জানিয়ে জেইউআই–এফ প্রধান ফজলুর বলেন, যখন তারা বলল যে, আমার দলের মতো ছোট ছোট দলগুলো সরকার থেকে সমর্থন উঠিয়ে দিচ্ছে। শুধু তাই নয় পিটিআই-বিরোধীরা এখন সংখ্যাগরিষ্ঠ, তখন আমার তাঁদের সঙ্গে একমত হতে হয়েছিলো। না হলে আমাকে বলা হতো যে আমি ইমরান খানকে রক্ষায় সহযোগিতা করেছি।
আট ফেব্রুয়ারির বিতর্কিত নির্বাচনের পর, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ জেইউআই–এফ দলের সমর্থন চেয়ে দেখা করার কথা জানিয়ে দলটির নেতা বলেন, তিনি তাতে সাড়া না দিয়ে তাদের দল পিএমএল–এন-কে তার সঙ্গে বিরোধী দলে বসার আহবান জানিয়েছেন। কিন্তু শাহবাজ আমার প্রস্তাবে কোনো উত্তর না দিয়ে চলে গেছেন। আমার কাছে পার্লামেন্ট তার গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছে, যোগ করেন ফজলুর রেহমান।
দরকারে আঙুল কেটে ফেলবেন মিয়ানমারের নাগরিকরা