পাকিস্তানের ১৬তম সাধারণ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে আট ফেব্রুয়ারি। এরপর চূড়ান্ত ফল প্রকাশে সময় লাগে তিন দিন। মোট ২৬৬টি আসনের মধ্যে এককভাবে সরকার গঠনে কোনো এক দল বা জোটের প্রয়োজন ১৩৪টি আসন। কিন্তু এবারের নির্বাচনে কোনো দলই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। ফলে সব দলদের মধ্যে বিভিন্ন চুক্তি শুরু হয়। কারণ পাকিস্তানের সংবিধান অনুযায়ী ২৯ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সরকার গঠনের করতে হবে।
ভোটের ফল অনুসারে, নির্বাচনে ইমরান খানের পাকিস্তান তেহরিক-ই ইনসাফ (পিটিআই) সমর্থিত স্বতন্ত্ররা অপ্রত্যাশিতভাবে ৯৩ আসন জিতেছে। কিন্তু সরকার গঠনের জন্য তাদের যথেষ্ট আসন ছিলো না।
অন্যদিকে নওয়াজ শরিফের দল পিএমএল-এন ৭৫ ও পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি) ৫৪ আসনে জয় পায়।
গত সপ্তাহে পিএমএল-এনের নেতা খাজা সাদ রফিক পিটিআই সমর্থিত প্রার্থীদের জোটের আহাবন জানান। কিন্তু তার এই প্রস্তাব রাজি হয়নি পিটিআই।
শুক্রবার আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ছয় দলীয় জোট করবে নওয়াজ শরিফ ও বিলাওয়াল ভুট্টোর দল। এই জোট হবে পিএমএল-এন ও পিপিপি এর নেতৃত্বে এবং জোটে ১৫০টিরও বেশি আসন থাকবে।
পিএমএল-এন নেতা শেহবাজ শরীফকে প্রধানমন্ত্রী পদের জন্য জোটের মনোনীত প্রার্থী করা হয়েছে। তার বিরোধী হিসাবে পাকিস্তানের কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান তার দলের নেতা ওমর আইয়ুবকে প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী হিসেবে বেছে নিয়েছেন।
পাকিস্তানের ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির সব নতুন সদস্য তাদের শপথ নেওয়ার পরে এবং স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হওয়ার পরে পাকিস্তানের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রীর জন্য ভোট হবে।
পাকিস্তানে ১২ কোটি রেজিস্টার্ড ভোটারদের মধ্যে এবার ছয় কোটিরও বেশি ভোটার ভোট দিয়েছে। যা এর আগের যেকোনো নির্বাচনের থেকে বেশি।
কিন্তু ২৪ কোটি মুসলমানের এই দেশটির ইতিহাসে আজ পর্যন্ত কোনো প্রধানমন্ত্রীই তার মেয়াদ পূর্ণ করতে পারেননি। পাকিস্তানের নতুন প্রধানমন্ত্রী এই চক্র ভাঙতে পারবে কি না তা ভবিষ্যৎ বলবে।
পাকিস্তানে বোমা ফাটালেন মাওলানা ফজলুর