দক্ষিণ কোরিয়া আগে থেকেই বিশ্বে সবচেয়ে কম জন্মহারের দেশ ছিল। তবে ২০২৩ সালে দেশটিতে এত কম শিশু জন্মগ্রহণ করেছে যে নিম্ন জন্মহারের নতুন রেকর্ড হয়েছে। সেই সাথে ২০২৩ সালেও দেশটিতে মোট জনসংখ্যা আগের বছরের তুলনায় হ্রাস পেয়েছে। এ নিয়ে টানা চতুর্থ বছর দেশটিতে মোট জনসংখ্যা হ্রাস পেলো।
দক্ষিণ কোরিয়ায় নারীরা সন্তান জন্মদানে আগ্রহ দিন দিন হারিয়ে ফেলছেন। দেশটিতে গড়ে একজন নারীর তার জীবনের পূর্ণ প্রজনন সময়ে সন্তান জন্মদানের হার মাত্র ০ দশমিক ৭২। গত বছরও যে হার ছিল ০ দশমিক ৭৮।
দক্ষিণ কোরিয়ায় গত বছর সবচেয়ে কম জন্মহার ছিল রাজধানী সিউলে, ০ দশমিক ৫৫। এ বছর দেশটিতে জন্মহার আরো কমে ০ দশমিক ৬৮ এ নেমে যেতে পারে বলেও পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে।
২০১৮ সাল থেকে দক্ষিণ কোরিয়াই ওইসিডি এর একমাত্র সদস্য যাদের নারী প্রজনন হার ১ এর নিচে। এ পরিস্থিতিতে জন্মহারের নিম্নগতি ঠেকাতে জাতীয়ভাবে অগ্রাধিকার ভিক্তিতে কাজ করেছে দেশটির সরকার। 'অসাধারণ কিছু ব্যবস্থা' গ্রহণের প্রতিশ্রুতিও এসেছে।
এ বছর এপ্রিলে দক্ষিণ কোরিয়ায় জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তার আগে বড় বড় রাজনৈতিক দলগুলো জনগণের জন্য আরো বাসস্থান এবং আরো সহজ শর্তে ঋণ প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে, যাতে জন্মহার হ্রাসের প্রবণতা আটকে দেয়া যায়।
দক্ষিণ কোরিয়ার সমাজ ব্যবস্থায় বিয়েকে সন্তান জন্মদানের পূর্বশর্ত হিসেবে দেখা হয়। সেখানে শিশু জন্মহার হ্রাসের পাশপাশি তরুণদের মধ্যে বিয়ে করার প্রবণতাও হ্রাস পেয়েছে।
এর কারণ হিসেবে জীবনযাত্রার অত্যধিক ব্যয় এবং অস্বাভাবিক দীর্ঘ কর্মঘণ্টাকে দায়ী করা হচ্ছে। নারীদের ঘর-বাহির দুটোই সামলাতে হয় বলে তাদের মধ্যে সন্তান জন্মদানে অনাগ্রহ বাড়ছে।
জন্মহার হ্রাস এবং বয়স্ক জনসংখ্যা বেড়ে যাওয়ার সমস্যা শুধু দক্ষিণ কোরিয়াকেই মোকাবেলা করতে হচ্ছে না। বরং তাদের প্রতিবেশী দেশগুলোকেও একই সংকটের মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে।
২০২২ সালে জাপানে জন্মহার রেকর্ড হ্রাস পেয়ে ১ দশমিক ২৬ হয়। চীনে ছিল আরো কম, ১ দশমিক ০৯। যা দেশটিতে নতুন রেকর্ড।
গাজায় যুদ্ধবিরতি হলে বিরতি দেবে হিজবুল্লাহ ও হুতিও