পাকিস্তানে টানা দুইবার প্রধানমন্ত্রী হয়ে দেশটির রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন অধ্যায় লিখেছেন শাহবাজ শরিফ। তাঁর আগে দেশটিতে এমন কৃতিত্ব দেখাতে পারেননি কোন রাজনীতিক। সোমবার পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের প্রেসিডেন্ট হাউসে প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেন শাহবাজ শরিফ।
শাহবাজ পাকিস্তানের তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের ছোট ভাই। কিন্তু, তার ভাই নওয়াজ শরিফের বিপরীতে, শেহবাজ শক্তিশালী সেনাবাহিনীর সাথে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখেন। বলা হচ্ছে, এই সম্পর্কের জেরেই নওয়াজকে আবারও দেশে ফিরিয়ে আনতেও সক্ষম হন শাহবাজ শরীফ।

নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ একজন কঠোর বাস্তববাদী হিসাবে পরিচিত। বছরের পর বছর ধরে একজন বাস্তববাদী ব্যক্তি হিসাবে একজন ভাল প্রশাসকের খ্যাতিও অর্জন করেছেন। ব্যক্তিগত জীবনের দিক থেকেও, শাহবাজ শরিফের বেশ বর্ণিল এবং সুখীকর স্মৃতিতে ভরপুর। যা নিয়ে মানুষের আগ্রহের কমতি নেই।
তিনি এমন একজন ব্যক্তি যিনি হৃদয় এবং আত্মার সাথে জীবনযাপন করেন বলে বিশ্বাস করা হয়। একজন রাজনীতিবিদ ছাড়াও, প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ তার আনন্দময় মেজাজের জন্য মানুষের মধ্যে সুপরিচিত। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকেই তার বৈবাহিক জীবনও এমন একটি বিষয়, যা সংবাদে এসেছে।

ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম ইন্ডিয়া ডটকমের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ পাঁচবার বিয়ে করেছেন এবং বর্তমানে তার দুই স্ত্রী রয়েছে। এরা হলেন নুসরাত ও তেহমিনা দুররানি। আগের তিন স্ত্রী আলিয়া হানি, নিলুফার খোসা এবং কুলসুম হায়াকে তালাক দিয়েছেন শাহবাজ শরিফ।
শাহবাজের সাথে প্রথম বিয়ে বেগম নুসরাতের সঙ্গে। এই বিয়ে নিয়ে শাহবাজ পরিবারের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন। ১৯৭৩ সালে ২৩ বছর বয়সে শাহবাজের পছন্দের পছন্দকে মেনে নেনি বাবা। নুসরাত-শাহবাজ ঘরে চারটি সন্তান রয়েছে সালমান, হামজা এবং যমজ বোন জাভেরিয়া ও রাবিয়া।
প্রথম স্ত্রী নুসরাতের মৃত্যুর অল্প সময় পর, শাহবাজ ১৯৯৩ সালে আলিয়া হানি নামে একজন উঠতি মডেলের সাথে দ্বিতীয়বার গাঁটছড়া বাঁধেন। তিনি যখন আলিয়াকে বিয়ে করেন, তখন তার বয়স ৪৩। বলা হয় প্রথম বিয়ের সময়েই আলিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে উছে শাহবাজের। তাদের প্রেম নিয়ে বেশ গল্পও রয়েছে।

লাহোরের ‘হানি ব্রিজ’ নামে একটি সেতু রয়েছে। বলা হয়, প্রেমকে স্মরণীয় করে রাখতেই সেতুটি আলিয়া হানির নামের শেষাংশ নিয়ে নামকরণ করেছিলেন। শাহবাজ শরিফ, তিনি তখন পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। এটাও বলা হয় যে, আলিয়ার বাড়িতে দ্রুত সময়ে পৌছানোর জন্যও সেতুটি নির্মিণ করেছিলন শাহবাজ।
যাই হোক, শাহবাজ-আলিয়া প্রেম বেশিদিন টেকেনি। তাদের বিয়ে দীর্ঘস্থায়ী হয়নি এবং এটি বিশ্বাস করা হয় যে, সৌদি আরবে নির্বাসিত বছরগুলোতে দুজনের বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছিল। আলিয়া রহস্যজনক পরিস্থিতিতে বিবাহ বিচ্ছেদের কয়েক মাস পরেই মারা গিয়েছিলেন বলে জানা গেছে।
একই বছর ১৯৯৩ সালে শাহবাজ শরিফ নিলুফার খোসার সাথে তৃতীয়বারের মতো বিয়ে করেন এবং এটি মানুষকে অবাক করে দেয়। খোসা ফেডারেল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সির ডিজি তারিক খোসা এবং বিচারপতি আসিফ সাঈদ খোসার বোন। মিডিয়া রিপোর্ট অনুযায়ী, শরিফের তৃতীয় বিয়েও সফল প্রমাণিত হয়নি।
পরপর দুটি ব্যর্থ বিয়ের পর, শাহবাজ শরীফ কয়েক বছর অপেক্ষা করেন এবং তারপর ২০০৩ সালে গোপনে ঔপন্যাসিক তেহমিনা দুররানিকে বিয়ে করেন। দুররানি একজন পাকিস্তানি লেখক, কর্মী, সমাজসেবী এবং শিল্পী এবং শেহবাজ শরিফের দ্বিতীয় স্বীকৃত স্ত্রী।

খবরে বলা হয়, আট বছরের প্রেমের পর দুজনে গোপনে বিয়ে করেন। এবং, সরকারি কর্মকর্তা থেকে শুরু করে শরিফ পরিবারসহ কারও কাছেই তাদের বিয়ের বিষয়ে কোনও ধারণা ছিলো না। তেহমিনা দুররানির অন্যতম বিখ্যাত উপন্যাস হলো, মাই ফিউডাল লর্ড।
পরবর্তীতে ২০১২ সালে, ৬০ বছর বয়সে শাহবাজ পঞ্চমবার বিয়ের পিঁড়িতে বসেন। এবার তিনি কুলসুম হায়া নামের এক মেয়ের সঙ্গে গাটছঁড়া বাঁধেন। এই বিয়েও ছিল গোপনে। প্রতিবেদন অনুসারে, দুজনের ইতিমধ্যেই ছাড়াছাড়ি হয়ে গেছে। তবে শাহবাজের সঙ্গে বিয়ের বিষয়টি সব সময়ই অস্বীকার করে আসছেন কুলসুম।
ছয় সন্তানের পিতা শাহবাজ। দুই ছেলে ও চার মেয়ে। বড় ছেলে হামজা পাঞ্জাব প্রাদেশিক পরিষদে বিরোধী দলীয় নেতা। ছোট ছেলে সুলেমান পারিবারিক ব্যবসা সামলান। সেও অবশ্য এখন দেশছাড়া। ইংল্যান্ডের বাসিন্দা। তার নামেও অর্থিক তছরূপসহ একাধিক মামলা চলছে বিভিন্ন পাকিস্তান আদালতে।
উল্লেখ্য, নওয়াজ-শাহবাজের সঙ্গে ভারতবর্ষের যোগ বেশ গভীর। কারণ তাঁদের বাবা-মা উভয়ই কাশ্মীরের বাসিন্দা ছিলেন। বাবা থাকতেন আনন্তনাগে এবং মা ছিলেন পুলওয়ামার বাসিন্দা। পরে বাবা অমৃতসর চলে যান। দেশভাগের পর তাঁরা বাধ্য হয়ে চলে আসেন পাকিস্তানের লাহোরে।
এআইআইবিকে বড় অংশীদার হিসেবে পেতে আগ্রহী বাংলাদেশ