রাফাহ শহর এবং গাজা উপত্যকার কেন্দ্রীয় অঞ্চলে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। এসব হামলায় ২০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। গাজার স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রাফাহ শহরে বেশ কয়েকটি বাড়ি ও অ্যাপার্টমেন্টে চালানো হামলায় ১৪ জন নিহত এবং আরও বহু লোক আহত হয়েছে।
মঙ্গলবার ভোরে রাফাহতে চালানো হামলায় ফিলিস্তিনি নাগরিক হতাহতের পাশাপাশি বহু অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে। ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া এড়াতে কোন ঘোষণা ছাড়াই রাফাহতে আগ্রাসন শুরু করেছে ইসরাইল।
একটি বিবৃতিতে রাফাহতে ইসরাইলি সেনাবাহিনীর দ্বারা পরিচালিত ক্রমবর্ধমান বোমাবর্ষণ এবং পরিকল্পিত ধ্বংসের নিন্দা করে ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, এই হামলা চালিয়ে ইসরাইল উদ্দেশ্যমূলকভাবে শহর আক্রমণের বিপদ সম্পর্কে আন্তর্জাতিক সতর্কতা উপেক্ষা করছে।

রাফাহ শহরে হামলার পরিকল্পনা ও সৈন্যদের অনুমতি দেয়ার কথা আগেই জানিয়েছিল নেতানিয়াহু প্রশাসন। তবে ইসরায়েলের এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপত্তি তোলে যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানি। কিন্তু, যুক্তরাষ্ট্রের হুঁশিয়ারি উপেক্ষা করেই গাজা উপত্যকার শেষ নিরাপদস্থল রাফাহ শহরে হামলা চালালো দখলদার ইসরাইল।
শুধু যুক্তরাষ্ট্রই নয়, বিশ্বের বেশিরভাগ দেশ বলেছে, রাফাহতে হামলা চালালে তার পরিণতি খুব ভালো হবে না। কারণ, ৮০ শতাংশ ধ্বংস হয়ে যাওয়া গাজার একমাত্র নিরাপদ স্থান এখন রাফাহ শহর। গত বছরের ৭ অক্টোবর ইসরাইল-হামাস সংঘাত শুরু হবারপর থেকে অন্তত ১৩ লাখ মানুষ রাফাহতে আশ্রয় নেন।
ইসরাইলের কৃষিমন্ত্রী আভি ডিখটার বলেছেন, ইসরাইল যদি হামাসকে পুরোপুরি পরাজিত করতে চায় তবে রাফাহতে স্থল আক্রমণ করতে হবে। এটি করার অন্য কোন বিকল্প নেই। অন্য কোনও প্রস্তাবিত পরিকল্পনা নিছক একটি ‘হলিউড’ দৃশ্যকল্প। তারপরও নেহানিয়াহু বিকল্প ভাবনার পথ খোলা রেখেছেন।

সোমবার হোয়াইট হাউজের জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক উপদেষ্টা জ্যাক সুলিভান বলেন, জো বাইডেন রাফাহতে ইসরাইলের বড় ধরনের সামরিক অভিযান পরিচালনার সম্ভাবনা নিয়ে খুবই গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। এমনিতেই চলমান হামলা গাজায় সৃষ্ট মানবিক সংকটকে চরম পর্যায়ে নিয়ে গেছে। তার মধ্যে গাজার শেষ নিরাপদ স্থান রাফাহ শহরে হামলা চালালে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে। ইসরাইলে ক্রমেই এক ঘরে হয়ে পড়বে।
