পুলিশের কাছে অভিযোগ দিয়েও শেষ রক্ষা হলো না সাভারের বিউটিশিয়ান সাথীর। শেষ পর্যন্ত মাদকাসক্ত স্বামী ও শ্বশুর বাড়ির লোকজনের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন সইতে না পেরে আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছেন তিনি। আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় গ্রেপ্তার স্বামী রানাকে একদিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। তবে সাথীর স্বজনদের অভিযোগ, পুলিশ আগে গাফিলতি না করলে এড়ানো যেতো এই আত্মহত্যা।
মাস পাঁচেক আগে থেকে স্ত্রী সাথীকে শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার করে আসছিলেন স্বামী রানা। চাইছিলেন ৫০ হাজার টাকা যৌতুক। অথচ ১৩ বছর আগে ভালোবেসে রুবিনা আক্তার সাথী বিয়ে করেছিলেন রানাকে।
স্বামীর অত্যাচার আর শ্বশুর বাড়ির লোকজনের নির্যাতন আর সইতে পারেননি সাথী। গত ২৭ মার্চ সাভারের দক্ষিণ রামচন্দ্রপুর ছাগিপাড়া এলাকায় বাড়ির একটি কক্ষ থেকে উদ্ধার হয় বিউটি পার্লারের মালিক সাথীর ঝুলন্ত মরদেহ।

নিহত সাথীর মা রাহিদা জানান, শ্বশুর বাড়ি থেকে ৫০ হাজার টাকার জন্য অত্যাচার ও মারধর করতো। তিন মাস ধরে তার ওপর নির্যাতন চলছিলো।
সাথীর স্বজনদের অভিযোগ, তাকে আত্মহত্যার জন্য প্রায়ই প্ররোচিত করতো স্বামী আর শ্বশুর বাড়ি লোকজন। কয়েক মাস আগে মাদকাসক্ত স্বামীর নির্যাতন থেকে বাঁচতে পুলিশের কাছে অভিযোগ করেছিলেন সাথী। কিন্তু মীমাংসার নামে অনেকটা জোর করেই অভিযোগ উঠিয়ে নেয় পুলিশ।
অবশ্য সাথী আত্মহত্যা করার পর তার স্বামীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ, পাঠিয়েছে কারাগারে। অন্যদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সাভার ট্যানারি পুলিশ ফাঁড়ির এস আই আব্দুল জলিল জানান, সাথী তাকে বলেছিলেন, আমি সংসার করবো। আপনি বুঝিয়ে যান যাতে শ্বশুর বাড়িতে আর মারধর না করে।
সাথী আত্মহত্যা করার পরদিনই রানাসহ শ্বশুর বাড়ির চারজনের নামে সাভার মডেল থানায় মামলা করেন তার মা রাহিদা। দশ বছরের এক কন্যা সন্তান রেখে গেছেন সাথী।
ধর্ষণ মামলার আসামি হলেন মহিলা কলেজের সভাপতি