কলকাতার আরজি কর হাসপাতালের এক নারী চিকিৎসককে পাশবিকভাবে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে খুনের ঘটনায় এখনও উত্তাল পশ্চিমবঙ্গ। ধর্ষণকাণ্ডের বিচারের দাবি এখন পরিণত হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদত্যাগের এক দফা দাবি। আর সেই আন্দোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছে বিজেপি।
বাংলাদেশের আলোচিত বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের আদলে সেখানকার ছাত্র সমাজও আন্দোলন করছে। তাদের সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি। বাংলা ব্লকেড নামে ডাকা হয়েছে বনধ। পালিত হয়েছে হরতাল। প্রতিদিনই নানা রূপে আয়োজিত হচ্ছে কোন কোন প্রতিবাদী সমাবেশ ও কর্মসূচি।
তবে বসে নেই পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ও তার দল তৃণমূল কংগ্রেস। পাল্টা সমাবেশ ও নানা কর্মসূচি দিয়ে রাজনীতির মাঠে দাপটে অবস্থান করছেন মমতা। আন্দোলনে মদদ ও সমর্থন দেয়ায় বেচায় চটেছেন তিনি। এজন্য সম্প্রতি হুঙ্কারও ছেড়েছেন। এমনকি মোদীকে দেখে নেয়ার হুশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।
শুধু তাই নয়, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি মন্তব্য নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা। বাকযুদ্ধও শুরু হয়ে গেছে প্রতিবেশী রাজ্য আসাম ও কেন্দ্র দিল্লির সঙ্গে। বিজেপি ও তাদের সব সমর্থক দলগুলো একযোগে মমতার বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছেন, করছেন নানা সমালোচনা।
কলকাতা শহরের অস্থিরতার জন্য গত বুধবার ভারতের ক্ষমতার মসনদে থাকা বিজেপি ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে দায়ি করে কঠোর ভাষায় আক্রমণ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, বাংলায় কিছু হলে সেই আগুন ছড়িয়ে পড়বে গোটা ভারতে। মোদীর আসনকে নাড়িয়ে দেয়ার কথা বলেও তিনি।
তৃণমূল কংগ্রেসের ছাত্র পরিষদের (টিএমসিপি) প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক জনসভায় মমতা হুমকি দিয়ে বলেন, মোদী বাবু, আপনার পার্টিকে দিয়ে আগুন লাগাচ্ছেন? মনে রাখবেন, বাংলায় যদি আগুন লাগান, আসামও থেমে থাকবে না।
এ সময় তিনি আরও হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, উত্তর-পূর্বও থেমে থাকবে না। উত্তরপ্রদেশ থেমে থাকবে না, বিহারও থেমে থাকবে না, ঝাড়খণ্ড থেমে থাকবে না। উড়িষ্যাও থেমে থাকবে না। আর দিল্লিও থেমে থাকবে না। আপনার চেয়ার আমরা টলমল করে দেবো।
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পরপরই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায় বিজেপি। আসামের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত বিশ্ব শর্মা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাষণের একাংশের ভিডিও পোস্ট করে তাকে ‘রক্তচক্ষু’ না দেখানোর অনুরোধ করেন।
বিশ্ব শর্মা বলেন, দিদি, আপনার এতো সাহস কীভাবে হলো যে আপনি আসামকে ধমক দিচ্ছেন? আমাদের রক্তচক্ষু দেখাবেন না। আপনার অসফলতার রাজনীতি দিয়ে একদম ভারতকে অগ্নিগর্ভ করে তোলার চেষ্টা করবেন না। বিভাজনকারীর ভাষা বলাটা আপনার শোভা পায় না।
টিএমসিপির সভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তার দলের পুরনো স্লোগান ‘বদলা নয়, বদল চাই’ বাদ দেওয়ার ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, আমরা বলেছিলাম বদলা নয়, বদল চাই। আজ বলছি, ওই কথা নয়। আজ বলছি, যেটা করার দরকার, সেটা আপনারা ভালো বুঝে করবেন।
বিরোধীদের অনেকেই মমতার এ ধরনের বিবৃতিকে প্রতিহিংসার আহ্বান হিসেবে দেখছেন। মমতার বিরুদ্ধে ‘রাষ্ট্রবিরোধিতার’ অভিযোগও তুলেছেন এক রাজনীতিবিদ। বিজেপির পশ্চিমবঙ্গ শাখার সভাপতি সুকান্ত মজুমদার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ওই অভিযোগ তোলেন।
তিনি এ বিষয়টি লিখিতভাবে এক চিঠিতে অমিত শাহকে জানিয়েছেন। মমতার বাংলা অস্থির হলে অন্যান্য রাজ্যেও অস্থিরতা চোখে পড়বে মন্তব্যটি ‘আপত্তিকর’ বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি। মজুমদার বলছেন, মমতা এ রকম গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকার যোগ্যতা হারিয়েছেন। অবিলম্বে তার পদত্যাগ করা উচিত।
এ ছাড়া ভারতের সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ভিনিত জিন্দাল দিল্লিতে এক পুলিশি অভিযোগ দায়ের করেছেন মমতার বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। পরে সে অভিযোগের কপি প্রেসিডেন্টের দপ্তরে এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এনিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কোন ধরনের প্রতিক্রিয়া এখনো জানায়নি।
বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করে যাবে ভারত: জয়শঙ্কর