মাস পেরিয়ে যেতে চললো। কিন্তু বিপদ কাটছে না পশ্চিবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীর। কলকাতা শহরের আরজি কর মেডিকেল কলেজে নারী চিকিৎসক ধর্ষণের প্রতিবাদে যে আন্দোলন শুরু হয়েছিলো তার আগুন ধীরে ধীরে বাড়ছে। সেই আন্দোলনে যোগ দিচ্ছে টলিউডের খ্যাতিমান অভিনতা-অভিনেত্রীসহ সমাজের সব শ্রেণি পেশার মানুষ। এমন অবস্থায় চরম বেকায়দা পড়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী।
রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে সাধারণ মানুষ এই আন্দোলনে সম্পৃক্ত হওয়ায় শহর ছাড়িয়ে গ্রামেও ছড়িয়ে পড়ার যাওয়ার উপক্রম হয়েছে এই আগুন। এরই মাঝে মমতা ব্যানার্জীর পদত্যাগের দাবি ছড়িয়ে পড়ছে ধীরে ধীরে। সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগ দিয়েছে রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরাও।

কলকাতার পুলিশ কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে কলকাতার লালবাজার এলাকায় পুলিশের প্রধান কার্যালয় অভিমুখে লাগাতার কর্মসূচি পালন করছে চিকিৎসকরা। লালবাজার থেকে আধ কিলোমিটার দূরে রাস্তায় বসে আন্দোলন চালাচ্ছেন চিকিৎসকেরা। সকালে রোদ উঠতেই ছাতা খুলে বসেছেন তারা।
শুধু কি তাই, টাঙানো হয়েছে ত্রিপল। দাবি পূরণের লক্ষ্যে অবস্থান যে দীর্ঘায়িত হতে চলেছে, সেই আভাস মিলেছে। আন্দোলনকারীরা বলে দিয়েছেন, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা পিছু হটবেন না। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন ডাক্তার সমাজকে প্রশাসনের এত ভয় কেন?
৯ অগস্ট যখন এই বর্বরোচিত ঘটনা ঘটে গেল, যখন ১৪ তারিখের ঘটনা ঘটল, তখন প্রশাসন কোথায় ছিল? তখন কোথায় ছিল এতো ব্যারিকেড? কিন্তু আজ ডাক্তারদের আটকানোর জন্য এতো ব্যারিকেড। পুলিশ আমাদের ধৈর্যের পরীক্ষা নিচ্ছে। কিন্তু তারা জানে না, আমাদের ৯৬ ঘণ্টা ডিউটি করার অভিজ্ঞতা আছে।

এরই মধ্যে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সিবিআই আরজি কর মেডিকেল কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষকে গ্রেফতার করেছে। ওই নারী চিকিৎসকের মৃত্যুর পরই সন্দীপ ঘোষের নাম উঠে আসে। সেখানকার সাবেক সুপার আখতার আলির সন্দীপের বিরুদ্ধে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন।
এর পাশাপাশি সিবিআই-এর কাছে আর্থিক দুর্নীতি মামলায় যে নাম উঠে এসেছিল তার মধ্যে প্রথমেই ছিল আরজি করের সাবেক অধ্যক্ষের নাম। একই সঙ্গে আরও তিনটি সংস্থার নামও ছিল সেখানে। সেই সঙ্গে পুলিশ কমিশনারের পদত্যাগ চেয়ে পথে নেমেছেন মেডিকেলের জুনিয়র ডাক্তারেরা।
এই পরিস্থিতিতে ‘জাস্টিস ফর আরজি কর’ আন্দোলনে শামিল হন চিকিৎসা পরিষেবার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য পেশাদারেরা। মঙ্গলবার বিকেলে ইএম বাইপাসের বিভিন্ন স্থানে শুরু হয়েছে অভিনব মানববন্ধন কর্মসূচি। এই কর্মসূচির ডাক নির্দিষ্ট কোনও সংগঠনের তরফে দেওয়া হয়নি।
পাটুলি থেকে রুবি, সন্তোষপুর কানেক্টর থেকে পরমা আইল্যান্ড হয়ে উল্টোডাঙা পর্যন্ত ইএম বাইপাসের প্রায় ১৭ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিভিন্ন এলাকায় হাতে হাত ধরে নাগরিক সমাজ আরজি কর-কাণ্ডের দোষীদের শাস্তির দাবিতে সুশৃঙ্খলভাবে মানববন্ধন কর্মসূচিতে শামিল হন কয়েক হাজার মানুষ।
এসব ঘটনায় মমতা এবং তার প্রশাসনের উপর বিশাল চাপের তৈরি হয়েছে। আরজি করের ঘটনাকে ঘিরে দীর্ঘ আন্দোলন ও তাতে সমাজের সব অংশের যোগদান সরকারের স্নায়ুর চাপ অনেকটাই বাড়িয়েছে। তার উপরে কয়েকটি পুজো কমিটি প্রতিবাদে ইতিমধ্যেই সেই অনুদান প্রত্যাখ্যান করার কথা ঘোষণা করেছে।
কলকাতার আদালত চত্বরে থাপ্পড় খেলেন সন্দীপ 