পশ্চিমবঙ্গের বিখ্যাত আরজি কর হাসপাতালে এক নারী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় তথ্যপ্রমাণ লোপাট এবং দেরিতে এফআইআর দায়েরের অভিযোগ উঠেছে হাসপাতালটির সাবেক অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ ও টালা থানার সাবেক ওসি অভিজিৎ মণ্ডলের বিরুদ্ধে। বুধবার তাদের তোলা হয় শিয়ালদহ আদালতে।
ভারতের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (সিবিআই) দাবি করেছে, টালা থানায় এই মামলা সংক্রান্ত কিছু ভুয়া নথি বানিয়ে সেগুলো অদল-বদল করা হয়েছিলো। দুই অভিযুক্তকে (সন্দীপ ও অভিজিৎ) হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের সময় এই তথ্য তাদের হাতে এসেছে বলে আদালতে দাবি করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাটি।
টালা থানার সিসি ফুটেজসহ ডিভিআর ও হার্ড ডিস্কও ফরেন্সিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষার ফল দিন দুয়েকের মধ্যে চলে আসবে বলে জানিয়েছে সিবিআই।
ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, দুই অভিযুক্তের নারকো ও পলিগ্রাফ পরীক্ষা করানো হবে কি না, তা নিয়ে শুনানি হওয়ার কথা ছিলো বুধবার। কিন্তু সেন্ট্রাল ফরেন্সিক সায়েন্স ল্যাবরেটরির কলকাতা অফিসের এক বিশেষজ্ঞ অন্য রাজ্যের একটি মামলায় কাজ করছেন তাই বুধবার তিনি আদালতে আসতে পারেননি।
আদালতে সন্দীপের আইনজীবীর দাবি, দেরিতে এফআইআরের অভিযোগ তার মক্কেলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। তার যুক্তি, ৯ আগস্ট ঘটনার কথা জানতে পেরে সকাল ৯টা ৫৮মিনিট নাগাদ টালা থানার তৎকালীন ওসিকে ফোন করে বিষয়টি জানিয়েছিলেন সন্দীপ। এরপর দুপুর আড়াইটা নাগাদ হাসপাতালের সুপারের মাধ্যমে লিখিত অভিযোগ জানানো হয়। সেক্ষেত্রে দেরিতে এফআইআর করার অভিযোগ কীভাবে সন্দীপের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন আইনজীবী।
আরজি কর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে দায়িত্বপ্রাপ্তদের ক্ষেত্রে কোন বিষয়টি কার এক্তিয়ারভুক্ত— সে বিষয়টি নিয়েও মন্তব্য করেন সন্দীপের আইনজীবী। আদালতে তিনি জানান, মেডিকেল কলেজে কিছু হলে তার দায়িত্ব সরাসরি অধ্যক্ষের ওপর বর্তায়। কিন্তু হাসপাতালের ক্ষেত্রে প্রথম দায়িত্ব হাসপাতালের সুপারের।
এদিকে অভিজিতের আইনজীবী আদালতে বলেন, টালা থানার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ ফরেন্সিক থেকে দিন কয়েকের মধ্যে আসবে বলা হচ্ছে। সেটি এলে ওই ফুটেজের ভিত্তিতে জেরা করা হবে। কিন্তু সেক্ষেত্রে টালা থানার প্রাক্তন ওসিকে কেন জেলে থাকতে হবে? তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন অভিজিতের আইনজীবী।
একইসঙ্গে পুলিশকর্মীকে গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে আইন রয়েছে, তা সিবিআই মানছে না বলেও আদালতে অভিযোগ জানান অভিজিতের আইনজীবী। তিনি বলেন, পুলিশের ক্ষেত্রে নিয়ম মেনে গ্রেপ্তারের আগে অনুমতি চাওয়া হয়নি। সাতবার নোটিশে হাজিরা দিয়েছেন অভিজিৎ। দু’বার মৌখিক ডাকা হয়েছিলো, তখনও গিয়েছিলেন। কিন্তু কোন কারণে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তা এখনও জানানো হয়নি।
আরজি করকাণ্ডের পর থেকে পশ্চিমবঙ্গে যে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ হয়েছে সেটিকে ‘বিরল থেকে বিরলতম জনরোষ’ বলে ব্যাখ্যা করেন সিবিআইয়ের আইনজীবী। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আইনজীবী বলেন, যে সিসি ফুটেজ ও মোবাইল উদ্ধার হয়েছে, সেগুলোর ফরেন্সিক তথ্যের জন্য অপেক্ষা করছি।
এসময় দুই অভিযুক্তকেই ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জেল হেফাজতে পাঠানোর জন্য আবেদন করে সিবিআই। পরে দুই অভিযুক্তের জামিনের আবেদন খারিজ করে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।
এর আগে গেলো মাসে কলকাতার আরজি কর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে শিক্ষানবিশ চিকিৎসক মৌমিতাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, ধর্ষণের পর তাকে হত্যা করা হয়েছে।
এর প্রতিবাদে বেশ কয়েকদিন ধরেই আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা। এরপর এটি মমতার পদত্যাগের আন্দোলনে রূপ নেয়। ‘দফা এক দাবি এক, মমতার পদত্যাগ’ প্ল্যাকার্ডে এমন স্লোগান লিখে রাস্তায় নেমেছেন তারা।
শ্রীলঙ্কার পার্লামেন্ট ভেঙে দিলেন নতুন প্রেসিডেন্ট
তামিলনাড়ু ও মহারাষ্ট্র রাজ্যে ১১ বাংলাদেশি আটক
মোসাদ সদরদপ্তরের কাছে হিজবুল্লাহর মিসাইল হামলা
এক সপ্তাহের ব্যবধানে কমলার নির্বাচনী অফিসে দ্বিতীয়বার গুলি