ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইঙ্গিত দিয়েছেন গাজা উপত্যকায় যুদ্ধ বন্ধে হামাসের সাথে একটি সম্ভাব্য চুক্তিতে আগ্রহী ইসরাইল। তবে, কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। নেতানিয়াহু বলেন, স্থায়ী যুদ্ধবিরতি চাইলে হামাসের সব সদস্যকে গাজা ছেড়ে চলে যেতে হবে এবং গাজাকে সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ করতে হবে। একই সঙ্গে গাজার পুরো নিয়ন্ত্রণ ইসরাইলের দখলে থাকবে বলেও ঘোষণা দেন তিনি।
তবে হামাস জানিয়েছে, আলোচনায় ইসরাইল অগ্রহণযোগ্য শর্ত দিচ্ছে যা তাদের পক্ষে মানা সম্ভব নয়। এর আগে হামাস বলেছিল, যতদিন ইসরাইলের দখলদারিত্ব থাকবে ততদিন তাদের হাতে অস্ত্র থাকবে। এ ব্যাপারে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। স্থায়ী যুদ্ধবিরতি নিয়ে হামাসও পাল্টা কিছু প্রস্তাব দিয়েছে।
গেলো কয়েক দিন ধরেই গাজায় নতুন করে জোরদার হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরাইল। এর মাঝেই হামাসের সঙ্গে ইসরাইয়েলের যুদ্ধবিরতি নিয়ে নতুন করে আলোচনার দরজা খুলেছে। শনিবার দোহায় কাতার ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হামাস ও ইসরাইলের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা শুরু হয়।
ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে দেয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরতি ও জিম্মি চুক্তির প্রস্তাবের পাশাপাশি গাজায় যুদ্ধের সমাপ্তির বিষয়ও আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। গাজায় স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধে নেতানিয়াহু কয়েকটি শর্ত দিয়েছেন। শর্তগুলোর মাঝে রয়েছে হামাসকে সব জিম্মিদের মুক্তি দিতে হবে, তাদের সব সদস্যকে সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ করতে হবে এবং গাজা ছেড়ে চলে যেতে হবে।
ইসরাইলি প্রতিনিধি দল জানিয়েছে, তারা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকোফের দেয়া সীমিত কয়েকজন জিম্মির মুক্তির বিনিময়ে অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি অথবা সমস্ত জিম্মির মুক্তি ও হামাসের সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণের বিনিময়ে স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধের প্রস্তাব খতিয়ে দেখছে।
উইটকোফের প্রস্তাব অনুযায়ী, গাজায় ৪৫ দিনের যুদ্ধবিরতি হবে। এই সময়ে হামাস ১০ জিম্মিকে মুক্তি দেবে। অপরদিকে ইসরাইল নির্দিষ্ট ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দেবে। যুদ্ধবিরতি চলাকালীন সময়ে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা হবে। স্থায়ী যুদ্ধবিরতি হলে হামাস সব জিম্মিকে মুক্তি দেবে। তবে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু বলেছেন, স্থায়ী যুদ্ধবিরতি চাইলে হামাসকে গাজার নিয়ন্ত্রণ ছাড়তে হবে এবং উপত্যকাটি অস্ত্রমুক্ত হতে হবে।
হামাস এখনো এই প্রস্তাবে সাড়া দেয়নি। হামাসের জ্যেষ্ঠ নেতা ওসামা হামদান বলেছেন, কাতারে চলমান যুদ্ধবিরতি আলোচনায় কিছু ‘অগ্রহণযোগ্য’ শর্ত দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা এখনো আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি, এবং কিছু প্রস্তাব আমাদের কাছে অগ্রহণযোগ্য। আমরা নিজেরাও কিছু প্রস্তাব পেশ করছি।
ওসামা হামদান আরও জানান, এখনো কোনো চূড়ান্ত চুক্তি হয়নি। তিনি বলেন গত সপ্তাহে হামাস এক মার্কিন-ইসরাইলি বন্দিকে মুক্তি দিয়েছিল, যাতে যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া দ্রুত হয়। হামাসের এই জেষ্ঠ নেতা আরও জানান, ফিলিস্তিনি জনগণই ঠিক করবে তাদের নেতারা কারা হবেন, এবং এর একমাত্র উপায় হলো নির্বাচন।
