প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপর্যস্ত এশিয়ার চার দেশ চীন, নেপাল, ভারত ও পাকিস্তান। প্রবল বৃষ্টিতে চীন ও নেপাল সীমান্তে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে ৮ জন নিহত এবং ২০ জন নিখোঁজ হয়েছেন। যাদের মধ্যে ১৪ জন নেপালি এবং ৬ জন চীনা নাগরিক। এছাড়া চীনে ঘূর্ণিঝড়ের সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
অন্যদিকে দুই দিনের টানা বৃষ্টিতে ডুবে গেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতার অনেক এলাকা। টানা বৃষ্টি, বন্যা ও ভূমিধসে পাকিস্তানেও বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। ক’দিনের প্রবল বৃষ্টিতে চীন ও নেপাল সীমান্তে দেখা দিয়েছে আকস্মিক বন্যা। ভেঙে গেছে দুদেশের মধ্যে সংযোগকারী ফ্রেন্ডশিপ ব্রিজ।
নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানায়, দেশটির ভূটেকোশী নদীতে আকস্মিক পানি বাড়ায় ও পাহাড়ি ঢলের কারণে বন্যা হয়েছে। নদীটির প্রবাহ এতোটাই তীব্র ছিল যে, অনেক এলাকা তলিয়ে গেছে এবং যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বলেও জানায় তারা।

এ ঘটনায় নিখোঁজ হন কয়েকজন চীনা শ্রমিক ও নেপালের কিছু পুলিশ সদস্য। চীনা শ্রমিকরা কাঠমাণ্ডু থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার উত্তরে নির্মাণাধীন ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপোতে কাজ করছিলেন। নেপালের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র রাজা রাম বসনেত জানান, দুর্ঘটনার পর ১১ জনকে উদ্ধার করা হয়।
ভোতে কোশি এবং তার আশপাশের এলাকা গত ২৪ ঘণ্টায় ভারী বর্ষণের কোনো ঘটনা ঘটেনি। দুই দেশের আবহাওয়া দপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন তিব্বতে ব্যাপক বৃষ্টি হয়েছে এবং এতে সেখানে হিমবাহ থেকে সৃষ্ট একটি হ্রদের পানি বেড়ে যাওয়া এই বন্যা দেখা দিয়েছে।
এদিকে চীনে ঘূর্ণিঝড়ের সতর্কতা জারি করা হয়েছে। গত কয়েকদিন ধরেই চীন আকস্মিক বন্যাসহ অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখে পড়েছে। এরমধেই এ সপ্তাহে একটি মৌসুমী ঝড়ের কবলে পড়তে যাচ্ছে দেশটি। যা ক্ষয়ক্ষতি আরও বাড়িয়ে দেবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

দুই দিনের টানা বৃষ্টিতে ডুবে গেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতার অনেক এলাকা। এছাড়া পানিতে ভাসছে রাজ্যের দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন এলাকাও।
জলপাইগুড়ির তিস্তা নদীসংলগ্ন এলাকায় জারি করা হয়েছে সতর্কতা। রেড অ্যালার্ট জারি হয়েছে দীঘাসহ দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকায়।
সোমবার রাত থেকে টানা বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে কলকাতা ও তার আশপাশের বেশ কিছু জেলা। কোথাও গোড়ালি পর্যন্ত, আবার কোথাও হাঁটু ছাড়িয়েছে জমা পানি। টানা বৃষ্টিতে জলমগ্ন থাকায় সমস্যায় পড়ছেন পথচারীরা। কলকাতা সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ থেকে শুরু করে কলেজ স্ট্রিট, বিবি গাঙ্গুলী স্ট্রিট, টালিগঞ্জ, গড়িয়া, যোধপুর পার্ক, যাদবপুর, বেহালা, কালীঘাট, উল্টোডাঙ্গাসহ বিস্তীর্ণ এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে।

কলকাতার বেশ কিছু আন্ডারপাসে জমেছে পানি। নগরীর বিভিন্ন গলিপথও পানিতে ডুবে গেছে। রাস্তায় পানি জমে থাকার কারণে গাড়ি ধীরে চলাচল করছে। ফলে যাত্রীদের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।
কলকাতা আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের প্রাদেশিক কর্মকর্তা সোমনাথ দত্ত জানিয়েছেন, কলকাতাসহ বেশ কিছু জেলায় অতি ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে, সঙ্গে বজ্রপাত হতে পারে। ঘণ্টায় ৪০ কিলোমিটার বেগে বাতাস বইবে। পশ্চিমবঙ্গ এবং উড়িষ্যার উপকূলীয় অঞ্চলে সমুদ্র অশান্ত থাকবে। মৎস্যজীবীদের গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যেতে নিষেধ করা হয়েছে।
দক্ষিণ এশিয়ার আরেক দেশ পাকিস্তানেও দুর্যোগ চলছে। পাকিস্তানে টানা মৌসুমি বৃষ্টিতে অন্তত ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর প্রেক্ষিতে দেশটির জাতীয় জরুরি অবস্থা পরিচালনা কেন্দ্র (এনইওসি) আগামী ১০ জুলাই পর্যন্ত দেশজুড়ে বন্যা সতর্কতা জারি করেছে। সোমবার সংস্থাটি এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
এনইওসি জানিয়েছে, আগামী ১০ জুলাই পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে, যা আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি বাড়াবে, বিশেষ করে নদীর জলাধার ঘেঁষা এলাকাগুলোতে। দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২৬ জুন থেকে টানা বৃষ্টিপাত, ভূমিধস ও ঘরবাড়ি ধসে অন্তত ৭৯ জন মারা গেছেন, যাদের মধ্যে ৩৮ জন শিশু।
টানা বৃষ্টির ফলে বেলুচিস্তানে গত ৪৮ ঘণ্টায় মৌসুমি বৃষ্টিপাতে কমপক্ষে সাতজন নিহত হয়েছেন এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। প্রাদেশিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ প্রদেশে অন্তত ২২টি জেলা বৃষ্টিপাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত জেলার মধ্যে রয়েছে আওরান, ঝাল মাগসি, খুজদার, মুসাখেল, কিলা সাইফুল্লাহ, বারখান, কোহলু, লোরালাই, ঝোব এবং শেরানির কিছু অংশ। এসব এলাকায় ঘরবাড়ি, অবকাঠামো এবং রাস্তাঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মোট ২২টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত এবং পাঁচটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে বলে জানিয়েছে পিডিএমএ।
এছাড়া রাজধানী ইসলামাবাদ ও এর আশপাশের রাওয়ালপিন্ডিতে পৃথক পৃথক ঘটনায় তিন শিশুসহ অন্তত ছয়জন পানিতে ডুবে মারা গেছেন। ভারী বৃষ্টিতে এ দুই শহরের নিচু এলাকাগুলোতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। অন্যদিকে, খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের মালাকান্দ, বুনের, মানসেহরা ও কারাক জেলায় ছয়জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এসব অঞ্চলে ভূমিধস ও বন্যার কারণে যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে।
গুজরাটে সেতুর পাটাতন ধসে যানবাহন পানিতে, নিহত ১০
টেক্সাসে বন্যায় নিখোঁজদের খোঁজে চলছে প্রাণান্ত অভিযান