জুন মাসে এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বোয়িং ড্রিমলাইনার ফ্লাইট দুর্ঘটনায় ২৬০ জন নিহত হওয়ার প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে এখন চর্চা তুঙ্গে। প্রতিবেদনে তদন্ত দল যেসব চমকপ্রদ তথ্য বের করেছেন, তা নিয়ে ক্রমেই রহস্যের দানা বাধছে। সেই সঙ্গে দুর্ঘটনাটি নিয়ে জন্ম দিচ্ছে নানা ধরনের প্রশ্ন।
উড্ডয়নের মাত্র তিন কয়েক সেকেন্ড পরেই, ১২ বছর বয়সী বোয়িং-৭৮৭ ড্রিমলাইনারের জ্বালানি নিয়ন্ত্রণের সুইচগুলো হঠাৎ করে ‘কাট-অফ’ অবস্থানে চলে যায়, যার ফলে ইঞ্জিনে জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায় এবং পুরোপুরি বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। ‘কাট-অফ’ সাধারণত অবতরণের পরেই করা হয়।
ককপিটের ভয়েস রেকর্ডিং থেকে জানা যাচ্ছে, একজন পাইলট অন্যজনকে জিজ্ঞাসা করছিলেন, তিনি কেন ‘কাট-অফ’ করেছেন, উত্তরে ওই ব্যক্তি জানান তিনি সেটা করেননি। রেকর্ডিংয়ে স্পষ্টভাবে বলা হয়নি যে, কে কী বলেছে। উড্ডয়নের সময় কো-পাইলট বিমানটি চালাচ্ছিলেন এবং ক্যাপ্টেন সেটি পর্যবেক্ষণ করছিলেন।
শনিবার, এয়ারক্রাফট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরোর (এএআইবি) প্রকাশিত ১৫ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সুইচগুলো তাদের স্বাভাবিক ইনফ্লাইট অবস্থানে ফিরিয়ে আনা হয়েছিলো, যার ফলে স্বয়ংক্রিয় ইঞ্জিন পুনরায় সচল হতে শুরু করেছিলো। দুর্ঘটনার সময়, একটি ইঞ্জিন পুনরায় চালু হচ্ছিলো, অন্যটি পুনরায় চালু হওয়ার জন্য চেষ্টা করছিলো, কিন্তু তখনও পুরো শক্তি সঞ্চয় করতে পারেনি।
এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইটটি ৪০ সেকেন্ডেরও কম সময় ধরে আকাশে ছিলো এবং পশ্চিম ভারতের আহমেদাবাদ শহরের একটি জনাকীর্ণ এলাকায় বিধ্বস্ত হয়, যা ভারতের সবচেয়ে বড় বিমান দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে একটি।

তদন্তকারীরা উড্ডয়নের ঠিক পরেই কী ভুল হয়েছিল তা বোঝার জন্য ধ্বংসাবশেষ এবং ককপিট রেকর্ডারগুলো পরীক্ষা করছেন। ফ্লাইটরাডার-২৪ অনুসারে, এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইটটি পরিষ্কার আবহাওয়ায় ৬২৫ ফুট উপরে উঠেছিলও এবং ৫০ সেকেন্ডের মধ্যে অবস্থানের হারিয়ে ফেলে।
বোয়িং, জেনারেল ইলেকট্রিক, এয়ার ইন্ডিয়া, ভারতীয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের বিশেষজ্ঞদের নিয়ে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের নেতৃত্বে এই তদন্ত বেশ কিছু প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। তারা বলছেন, জ্বালানি সুইচগুলো যাতে দুর্ঘটনাক্রম সক্রিয় হতে না পারে সেজন্য লিভার-লক পদ্ধতি রাখা হয়েছে।
তদন্তকারী কর্মকর্তারা বলেছেন, ‘লিভার-লক ফুয়েল সুইচগুলো’ এমনভাবে ডিজাইন করা, যাতে দুর্ঘটনাবশত তাদের ‘অ্যাক্টিভেশন’ বা সক্রিয় হয়ে ওঠা রোধ করা যায়। এই সুইচ ‘ফ্লিপ’ করার আগে ‘আনলক’ করতে সেটা ধরে অবশ্যই টানতে হয়। সুরক্ষা সংক্রান্ত এই বৈশিষ্ট্য চালু করা হয়েছিলো ১৯৫০-এর দশকে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কানাডাভিত্তিক এক তদন্ত কর্মকর্তা বিবিসিকে বলেন, এক হাত দিয়ে একবারে দুটি সুইচ টানা প্রায় অসম্ভব এবং তাই সেটা দুর্ঘটনাবশত হয়ে থাকতে পারে সেই সম্ভাবনাও তৈরি হয় না।

এই বিষয়টি এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইট বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনাকে অন্যান্য দুর্ঘটনা থেকে আলাদা করে তুলেছে। দুর্ঘটনা তদন্তকারী সাবেক কর্মকর্তা ওহাইও স্টেট ইউনিভার্সিটির বিশেষজ্ঞ শন প্রুচনিকি বলেন, এটা একটি প্রশ্ন উত্থাপন করে, কেন ওই পাইলট বা যে সে অর্থে কোনও পাইলটই আসলে সুইচগুলো অফ পজিশনে ঠেলে দেবেন?
তিনি আরও বলেন, ইচ্ছাকৃত ছিল, না কি এটা কোনও বিভ্রান্তির ফল? বিষয়টা অসম্ভব বলে মনে হচ্ছে, কারণ পাইলটরা অস্বাভাবিক কিছু রিপোর্ট করেননি। অনেক ক্ষেত্রে ককপিটে জরুরি অবস্থায়, পাইলটরা ভুল বোতাম টিপতে বা ভুল নির্বাচন করতে পারেন। তবে এখানে সে জাতীয় পরিস্থিতির কোনও ইঙ্গিত ছিল না বা ফুয়েল সুইচগুলো ভুলভাবে নির্বাচন করা হয়েছিল; এমন কোনও আলোচনারও হদিশ মেলেনি।
গাজায় ইসরাইলি বর্বরতায় ভয়াবহ হচ্ছে মানবিক সঙ্কট