মার্কিন প্রেসিডেন্ড ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতের ওপর আর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্প আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন। এই শুল্ক রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল কেনা অব্যাহত রাখায় ‘শাস্তি’ হিসেবে আরোপ করা হয়েছে। এর ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় পণ্যের ওপর মোট শুল্ক ৫০ শতাংশে পৌঁছেছে। খবর এনডিটিভির।
স্থানীয় সময় বুধবার রাতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন।
এই সিদ্ধান্ত রাশিয়ার ইউক্রেন যুদ্ধে অর্থ সরবরাহকারী দেশগুলোর বিরুদ্ধে ট্রাম্পের কঠোর অবস্থানের অংশ। ভারতের নতুন শুল্ক চীনের ওপর আরোপিত ৩০ শতাংশ এবং পাকিস্তানের উপর ২৯ শতাংশ শুল্কের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশে বলেছেন, আমি দেখতে পেয়েছি, ভারত সরকার বর্তমানে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে রাশিয়ান ফেডারেশনের তেল আমদানি করছে... আমার বিবেচনায় ভারত থেকে আমদানি পণ্যের ওপর অ্যাড ভ্যালোরেম শুল্ক আরোপ করা প্রয়োজন।
ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, রাশিয়ার তেল কেনার জরিমানা হিসেবে ট্রাম্পের আরোপিত নতুন এই শুল্ক আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে কার্যকর হবে।ভারতীয় পণ্যের ওপর বৃহস্পতিবার থেকে কার্যকর হওয়া যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত ২৫ শতাংশ শুল্কের সঙ্গে অতিরিক্ত এই শুল্ক যোগ হবে।
তবে মার্কিন স্টিল ও অ্যালুমিনিয়ামের মতো নির্দিষ্ট খাতভিত্তিক শুল্কের আওতাভুক্ত ভারতীয় পণ্যের জন্য বিদ্যমান ছাড় বজায় থাকবে। এছাড়া ওষুধের মতো সংবেদনশীল যেসব খাতের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে, সেসব খাতের পণ্য আপাতত যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক ছাড় পাবে।
এই শুল্ক আরোপের কয়েক ঘণ্টা আগে ট্রাম্প ভারত-মার্কিন বাণিজ্য সম্পর্ক নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। তিনি একটি মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যমকে বলেন, ভারত আমাদের ভালো বাণিজ্যিক অংশীদার নয়... আমরা ২৫ শতাংশ শুল্ক নির্ধারণ করেছিলাম... কিন্তু তারা রাশিয়ার তেল কিনছে বলে আমি এটি পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াবো।
গত ৩০ জুলাই ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন যে রাশিয়া থেকে তেল এবং সামরিক সরঞ্জাম কেনার জন্য ভারতকে ২৫ শতাংশ শুল্ক এবং একটি (তখন অনির্দিষ্ট) ‘জরিমানা’ দিতে হবে। এটি এপ্রিলে ঘোষিত ‘পারস্পরিক শুল্ক’ নীতির ৪৮ ঘণ্টা আগে ছিল, যা আলোচনার জন্য স্থগিত করা হয়েছিল।
ট্রাম্প ভারতের কঠোর এবং আপত্তিকর অ-আর্থিক বাণিজ্য বাধা নিয়েও সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, ভারত আমাদের বন্ধু, কিন্তু তাদের শুল্ক বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে বেশি এবং তাদের অ-আর্থিক বাণিজ্য বাধাগুলো অত্যন্ত কঠোর এবং আপত্তিকর।
জবাবে ভারতীয় সরকার উল্লেখ করেছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ অনেক পশ্চিমা দেশ রাশিয়া থেকে পণ্য আমদানি করে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, তেল ক্রয় বৈশ্বিক বাজার পরিস্থিতির কারণে একটি প্রয়োজনীয়তা, যেখানে সমালোচনাকারী দেশগুলো রাশিয়ার সাথে অ-জরুরি পণ্যের বাণিজ্যে জড়িত।
