গ্রিনল্যান্ড দখলে অটল ট্রাম্প, মার্কিন-ডেনিশ কূটনৈতিক উত্তেজনা চরমে

আপডেট : ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৫:০০ পিএম

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও ঘোষণা করেছেন, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থেই যুক্তরাষ্ট্রের জন্য গ্রিনল্যান্ড 'অপরিহার্য'। এই স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলটিকে ঘিরে ট্রাম্পের নতুন বিশেষ দূত নিয়োগের সিদ্ধান্ত ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড কর্তৃপক্ষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে, যা ওয়াশিংটন ও কোপেনহেগেনের মধ্যে বড় ধরনের কূটনৈতিক লড়াইয়ের রূপ নিয়েছে।

সোমবার ফ্লোরিডার পাম বিচে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গ্রিনল্যান্ড প্রয়োজন, খনিজ সম্পদের জন্য নয়। তিনি আরও দাবি করেন, গ্রিনল্যান্ডের উপকূলজুড়ে রাশিয়া ও চীনের জাহাজের আনাগোনা বেড়ে গেছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য হুমকি।

এর আগে রোববার ট্রাম্প লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যের গভর্নর জেফ ল্যান্ড্রিকে গ্রিনল্যান্ড বিষয়ক ‘বিশেষ দূত’ হিসেবে নিয়োগ দেন। ল্যান্ড্রি দায়িত্ব নিয়েই প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তিনি এই ডেনিশ অঞ্চলটিকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ করে ছাড়বেন। এমনকি ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড দখলে প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগের সম্ভাবনাও নাকচ করেননি।

ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের কঠোর প্রতিক্রিয়া

ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে ‘পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য’ বলে অভিহিত করেছে ডেনমার্ক। ডেনিশ প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন এবং গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেনস-ফ্রেডেরিক নিলসেন এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছেন, গ্রিনল্যান্ড কেবল গ্রিনল্যান্ডবাসীর। আপনি অন্য একটি দেশকে নিজের সাথে যুক্ত করতে পারেন না। আমরা আমাদের আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মান প্রদর্শনের আশা করি।

ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোকে রাসমুসেন তীব্র ক্ষোভ জানিয়ে ডেনমার্কে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে তলব করেন এবং জানিয়ে দিয়েছেন, তারা একটি চূড়ান্ত সীমা টেনে দিয়েছেন যা যুক্তরাষ্ট্রকে মানতে হবে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের সংহতি

এই ইস্যুতে ডেনমার্কের পাশে দাঁড়িয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডের লিয়েন এবং ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা সামাজিক মাধ্যমে জানিয়েছেন যে, সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা আন্তর্জাতিক আইনের মৌলিক নীতি এবং ইইউ এক্ষেত্রে ডেনমার্কের প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করছে।

গ্রিনল্যান্ডের কৌশলগত গুরুত্ব

উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপের মাঝামাঝি অবস্থিত গ্রিনল্যান্ড সামরিক ও অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র চলাচলের সংক্ষিপ্ততম পথটি গ্রিনল্যান্ডের ওপর দিয়ে। মেরু অঞ্চলের বরফ গলে যাওয়ায় নতুন নতুন বাণিজ্যিক নৌপথ তৈরি হচ্ছে। সেখানে প্রচুর পরিমাণ দুর্লভ খনিজ সম্পদ রয়েছে। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের 'পিটুফিক' সামরিক ঘাঁটি আগে থেকেই রয়েছে। 

গত জানুয়ারিতে পরিচালিত এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, গ্রিনল্যান্ডের ৫৭ হাজার মানুষের অধিকাংশ ডেনমার্ক থেকে স্বাধীনতা চাইলেও তারা যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হতে মোটেও আগ্রহী নন। ন্যাটো মিত্র ডেনমার্কের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের এই টানাপড়েন বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন মেরূকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ডেনমার্ক ইতিমধ্যেই আর্কটিক অঞ্চলে তাদের সামরিক উপস্থিতি বাড়াতে দুই বিলিয়ন ডলারের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে।

এআরএস
আগামী ৩ নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান পার্টির সম্ভাব্য রাজনৈতিক ক্ষয়ক্ষতি সামাল দিতে ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ উপদেষ্টারা ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধকে আপাতত একটি...
প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সঙ্গে অভ্যন্তরীণ তীব্র বিরোধের জের ধরে পদত্যাগ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের আর্মি সেক্রেটারি ড্যান ড্রিসকল। প্রায় ১৮ মাস মার্কিন সেনাবাহিনীর সর্বোচ্চ বেসামরিক পদে দায়িত্ব...
কয়েক সপ্তাহের আপেক্ষিক বিরতির পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাত আবার ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। মঙ্গল ও বুধবার মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে দুই দেশের ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় পরিস্থিতি চরম...
ইরানের অস্ত্র সক্ষমতা ব্যাপকভাবে হ্রাস পাওয়ার বিষয়ে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন গুজব ও দাবিকে প্রত্যাখ্যান করেছেন ইসলামিক রেভল্যুশন গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) কমান্ডার-ইন-চিফের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার...
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আরাধ্য ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শুভ জন্মতিথি ও জন্মাষ্টমী শুক্রবার। ন্যায়নীতি, সত্য ও সুন্দরকে প্রতিষ্ঠা এবং দুষ্টের দমন করে মানবজাতির কল্যাণের লক্ষ্যে ভাদ্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের এই...
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) বাতিল হওয়ার কারণে খেলোয়াড়দের আয়ের সুযোগ কমে যাওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ঘরোয়া ক্রিকেটের ম্যাচ ফি দ্বিগুণ করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)-এর পরিবর্তে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ (এসআরবি) নামে পুলিশের একটি নতুন বিশেষায়িত ইউনিট গঠনের লক্ষ্যে জাতীয় সংসদে একটি বিল উত্থাপন করা হয়েছে।
২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করার লক্ষ্যকে কোনো স্লোগান নয়, বরং একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
লোডিং...
সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর