‘খারাপ প্রতিবেশী’কে কড়া বার্তা জয়শঙ্করের

  • প্রতিবেশীর সঙ্গে ভালো সম্পর্কে উদাহরণ টেনে চেন্নাইয়ে শিক্ষার্থীদের কাছে খালেদা জিয়ার শেষকৃত্যে যোগ দেওয়ার অভিজ্ঞতার কথাও বলেন তিনি।
আপডেট : ০২ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:৪৫ পিএম

সন্ত্রাসবাদ এবং প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে সুসম্পর্ক নিয়ে ভারতের কঠোর অবস্থান স্পষ্ট করলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শংকর। তিনি বলেন, কোনো দেশ যদি ভারতে সন্ত্রাসবাদ ছড়ানো অব্যাহত রাখে, তবে সেই দেশ নয়াদিল্লির কাছে পানি বণ্টনের দাবি রাখতে পারে না। খবর দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের।

ভারত গত বছরের ২২ এপ্রিল কাশ্মীরের পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলার পর পাকিস্তানের সঙ্গে সিন্ধু জল চুক্তি স্থগিত করে। জয়শঙ্করের এই মন্তব্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির এই দাবির সঙ্গে প্রতিধ্বনিত হয় যে, ‘রক্ত এবং পানি এক সঙ্গে প্রবাহিত হতে পারে না’।  

শুক্রবার (২ জানুয়ারি) চেন্নাইয়ের আইআইটি মাদ্রাসে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলাপচারিতায় তিনি এসব কথা বলেন।

পাকিস্তানের নাম না নিয়ে সরাসরি ইসলামাবাদের দিকে ইঙ্গিত করে জয়শঙ্কর বলেন, ভালো প্রতিবেশীদের আমরা টিকা, জ্বালানি, অর্থনৈতিক সহায়তা দিয়ে থাকি। কিন্তু খারাপ প্রতিবেশী, যারা সন্ত্রাসবাদ অব্যাহত রাখে, তাদের বিরুদ্ধে ভারতের নিজের জনগণকে রক্ষা করার পূর্ণ অধিকার আছে এবং আমরা যা দরকার তাই করবো।

তিনি বলেন, আমাদের সঙ্গে পানি ভাগ করে নেওয়ার অনুরোধ, আবার আমাদের দেশে সন্ত্রাস ছড়াতে পারেন না। এ দুটি এক সঙ্গে চলতে পারে না।

গত বছরের ২২ এপ্রিল পেহেলগামে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন নিরীহ পর্যটক নিহত হওয়ার পর ভারত ইন্ডাস জলচুক্তি স্থগিত রেখেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘রক্ত ও পানি এক সঙ্গে বইতে পারে না’ বার্তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই স্থগিতাদেশ অব্যাহত রয়েছে। ওই হামলার জবাবে ভারত ‘অপারেশন সিন্দুর’ চালিয়ে পাকিস্তান ও পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে সন্ত্রাসী ঘাঁটিগুলি ধ্বংস করেছে।

জয়শঙ্কর জোর দিয়ে বলেন, আমাদের নাগরিককে রক্ষা করার এই অধিকার কীভাবে প্রয়োগ করবো, তা একান্তভাবে আমাদের সিদ্ধান্ত। কেউ আমাদের বলে দিতে পারে না কী করবো বা কী করবো না।

ভারতের প্রতিবেশী নীতি নিয়ে তিনি বলেন, দেশটি ভালো প্রতিবেশীদের সঙ্গে সহযোগিতার হাত বাড়ায়। এসময় শ্রীলঙ্কাকে চার বিলিয়ন ডলারের সাহায্য, করোনাকালে টিকা সরবরাহ, ইউক্রেন সংকটে জ্বালানি সহায়তা এসবের উদাহরণ দেন তিনি। তবে যারা ক্ষতি করে, তাদের সঙ্গে কোনো আপস নয়, যোগ করেন জয়শঙ্কর।

অন্য দেশের সঙ্গে যোগাযোগের গুরুত্ব সম্পর্কে বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ভারতের উদ্দেশ্য ভুল বোঝা থেকে মানুষকে বিরত রাখা। যদি আপনি ভালভাবে, স্পষ্টভাবে এবং সততার সঙ্গে যোগাযোগ করেন, তাহলে অন্য দেশ এবং অন্য মানুষ এটিকে সম্মান করে এবং গ্রহণ করে।

তিনি বলেন,বিশ্বজুড়ে অনেক মানুষ তাদের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং ঐতিহ্য নিয়ে গর্বিত। আমরা কেন এমন হবো না তার কোনো কারণ আমি দেখতে পাচ্ছি না। 

তিনি আরও উল্লেখ করেন, খুব কম প্রাচীন সভ্যতা রয়েছে যারা প্রধান আধুনিক জাতিরাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার জন্য টিকে আছে, যার মধ্যে ভারতও রয়েছে।

আমাদের অতীত সম্পর্কে ধারণা আছে, যা খুব কম দেশেরই আছে মন্তব্য করে জয়শঙ্কর বলেন, একটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক মডেল বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্ত আমাদের ছিলো, যা গণতন্ত্রের ধারণাকে একটি সার্বজনীন রাজনৈতিক ধারণা হিসেবে গড়ে তুলেছিলো। আমরা যদি সেই পথে না যেতাম, তাহলে গণতান্ত্রিক মডেল, যেমনটি আমরা জানি, আঞ্চলিক এবং সংকীর্ণ হত... পশ্চিমাদের সঙ্গে অংশীদারিত্বও গুরুত্বপূর্ণ এবং এভাবেই আমরা বিশ্বকে গঠন করি। 

এদিন জয়শঙ্করের কণ্ঠে ছিলো সৌহার্দের বার্তাও। সম্প্রতি বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শেষকৃত্যে অংশ নিতে ঢাকা সফরের অভিজ্ঞতাও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিনিময় করেন তিনি। এটি প্রতিবেশী দেশগুলোর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সময় ভারতের সক্রিয় কূটনৈতিক উপস্থিতিরই বহিঃপ্রকাশ।

একাত্তর/এসি
শোকের উপলক্ষ্য অনুযায়ী কালো পোশাক পরে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বাংলাদেশের প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছেলে এবং বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করেন; তাদের...
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যেভাবে প্রকাশ্যে কূটনীতি চালাচ্ছেন, তা অভূতপূর্ব বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর।
বাংলাদেশের চলমান পরিস্থিতির ওপর প্রতিবেশী ভারত নিবিড়ভাবে নজর রাখছে বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তিনি বলেছেন, ভারতের জাতীয় স্বার্থ ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য নয়াদিল্লি...
ভারতের চেয়ে বেশি কোনো দেশ বাংলাদেশের মঙ্গল কামনা করে না বলে দাবি করেছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তিনি বলেন, আমরা আশা করি বাংলাদেশ সঠিক পথে যাবে, সঠিক কাজ করবে।
দেশে মাদক নিয়ন্ত্রণ ও চিকিৎসা ব্যবস্থার মতো স্পর্শকাতর খাতগুলোতে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর চরম অকার্যকারিতা ও ব্যর্থতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের তীব্র সমালোচনা...
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বিরোধিতা করতে গিয়ে স্বৈরাচার ফিরে আসার পথ উন্মুক্ত করা হলে তা হবে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ও ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের সঙ্গে গাদ্দারি।
ঢাকা শহরকে পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যকর ও বাসযোগ্য করে তুলতে সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সৌদি আরবে সম্প্রতি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশি নারী ও পুরুষের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য উদ্ধার এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নিতে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত...
লোডিং...
সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর