বড় বিক্ষোভের পরও কেন টলানো যাচ্ছে না খামেনি প্রশাসনকে?

আপডেট : ১৪ জানুয়ারি ২০২৬, ০৬:১২ পিএম

দেশব্যাপী গণবিক্ষোভ এবং বছরের পর বছর ধরে চলা প্রবল বহিঃশক্তির চাপ সত্ত্বেও, ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর শীর্ষ স্তরে এখন পর্যন্ত এমন কোনো ফাটলের চিহ্ন দেখা যায়নি, যা বিশ্বের অন্যতম দীর্ঘস্থায়ী এই শাসনব্যবস্থার অবসান ঘটাতে পারে। দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে এই সংহতি তেহরানে খামেনি সরকারের অন্যতম ভিত্তি। অতীতে বহুবার এই সংহতির জোরের টিকে গেছে ইসলামী শাসন ব্যবস্থা।

ইরানের ধর্মীয় শাসকদের ওপর চাপ আরও বাড়িয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিক্ষোভ দমনে তেহরানের কঠোর পদক্ষেপের বিরুদ্ধে বারবার সামরিক অভিযানের হুমকি দিচ্ছেন।

উল্লেখ্য, গত বছর ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র একযোগে বোমা হামলা চালিয়েছিল। হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ইরানের পরিস্থিতি মোকাবিলায় ট্রাম্পের সামনে ‘সব বিকল্পই’ খোলা রয়েছে।

তবে রয়টার্সের সঙ্গে আলাপে দুই কূটনীতিক, মধ্যপ্রাচ্যের দুটি সরকারি সূত্র এবং দুই বিশ্লেষক জানিয়েছেন, যতক্ষণ না রাজপথের আন্দোলন এবং বিদেশি চাপ সরকারের উচ্চপর্যায়ে পক্ষত্যাগের মতো পরিস্থিতি তৈরি করতে পারছে, ততক্ষণ পর্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়লেও বর্তমান সরকার টিকে থাকার সম্ভাবনা বেশি।

ইরানের একজন কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, এই বিক্ষোভে প্রায় ২,০০০ মানুষ নিহত হয়েছেন। তবে তিনি বেসামরিক নাগরিক এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের মৃত্যুর জন্য ‘সন্ত্রাসী’দের দায়ী করেছেন। এর আগে মানবাধিকার সংস্থাগুলো নিহতের সংখ্যা প্রায় ৬০০ বলে জানিয়েছিল।

ইরান-মার্কিন বিশেষজ্ঞ ওয়ালি নাসর মনে করেন, ইরানের বিপ্লবী গার্ড এবং বাসিজ আধাসামরিক বাহিনী নিয়ে গঠিত নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয়- যাদের সদস্য সংখ্যা প্রায় ১০ লাখ, অভ্যন্তরীণ ফাটল ছাড়া বাইরে থেকে ভাঙা অত্যন্ত কঠিন। তিনি বলেন, এ ধরনের আন্দোলন সফল হতে হলে রাজপথে অনেক দীর্ঘ সময় ধরে জনসমাবেশ থাকতে হবে এবং রাষ্ট্রীয় কাঠামোর ভাঙন জরুরি। বিশেষ করে নিরাপত্তা বাহিনীর একটি অংশকে দলত্যাগ করতে হবে। এ বিষয়ে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

৮৬ বছর বয়সী সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি এর আগেও বিক্ষোভের একাধিক ঢেউ সফলভাবে মোকাবিলা করেছেন। মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউটের পল সালেম বলেন, ২০০৯ সালের পর এটি পঞ্চম বড় অভ্যুত্থান, যা সরকারের টিকে থাকার সক্ষমতার প্রমাণ দেয়- যদিও তারা গভীর অভ্যন্তরীণ সঙ্কটে নিমজ্জিত।

সাবেক মার্কিন কূটনীতিক এবং ইরান বিশেষজ্ঞ অ্যালান আয়ার বলেন, পরিস্থিতি বদলাতে হলে বিক্ষোভকারীদের এমন গতিবেগ তৈরি করতে হবে যা সরকারের শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান, অনুগত বিশাল জনবল এবং ৯ কোটি মানুষের এই বিশাল ভৌগোলিক ও জনতাত্ত্বিক সুবিধাকে অতিক্রম করতে পারে।

তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, টিকে থাকা মানেই স্থিতিশীলতা নয়। ১৯৭৯ সালের পর ইসলামি প্রজাতন্ত্র এখন সব থেকে গুরুতর চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। নিষেধাজ্ঞা দেশটির অর্থনীতিকে শ্বাসরুদ্ধ করে ফেলেছে। কৌশলগতভাবে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের চাপে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং লেবানন, সিরিয়া ও গাজায় মিত্রদের ক্ষয়ক্ষতির কারণে তাদের আঞ্চলিক ‘প্রতিরোধের অক্ষ’ আজ দুর্বল।

ওয়ালি নাসর মনে করেন, যদিও ইসলামি প্রজাতন্ত্রের এখনই ‘পতনের সময়’ আসেনি, তবে সামনের দিনগুলোতে তারা এক চরম প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাবে।

গত ২৮ ডিসেম্বর দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ দ্রুতই ধর্মীয় শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনে রূপ নেয়। রাজনৈতিকভাবে, এই সহিংস দমন-পীড়ন ইসলামি প্রজাতন্ত্রের অবশিষ্ট জনসমর্থন বা বৈধতাকেও মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ জানিয়েছে, তারা এখন পর্যন্ত ৫৭৩ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে, যার মধ্যে ৫০৩ জন বিক্ষোভকারী এবং ৬৯ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য। সংস্থাটির মতে, এ পর্যন্ত ১০ হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এআরএস
হরমুজ প্রণালী পুনরায় চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দিতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পেশ করা ‘সাত দিনের প্রস্তাব’ এখনও টেবিলে বহাল রয়েছে বলে সোজা জানিয়ে দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। রোববার...
পারস্য উপসাগরের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি বন্ধ বলে ঘোষণা দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)-এর নৌবাহিনী।  সেই সঙ্গে ওই জলসীমায় শুক্রবার থেকে এ...
ইরান যাতে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্রের মালিক হতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে দেশটির পরমাণু কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত ভূগর্ভস্থ গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনে সামরিক হামলার ইঙ্গিত দিয়েছেন...
ছয় মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা ইরান-যুক্তরাষ্ট্র রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ যখন এক চরম অনিশ্চয়তায় দাঁড়িয়ে রয়েছে, ঠিক তখনই মার্কিন সামরিক বাহিনীর এক বিস্ফোরক পরিকল্পনা সামনে এসেছে। পারমাণিক বোমার বাইরে দেশটির হাতে...
দেশে মাদক নিয়ন্ত্রণ ও চিকিৎসা ব্যবস্থার মতো স্পর্শকাতর খাতগুলোতে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর চরম অকার্যকারিতা ও ব্যর্থতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের তীব্র সমালোচনা...
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বিরোধিতা করতে গিয়ে স্বৈরাচার ফিরে আসার পথ উন্মুক্ত করা হলে তা হবে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ও ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের সঙ্গে গাদ্দারি।
ঢাকা শহরকে পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যকর ও বাসযোগ্য করে তুলতে সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সৌদি আরবে সম্প্রতি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশি নারী ও পুরুষের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য উদ্ধার এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নিতে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত...
লোডিং...
সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর