মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় মার্কিন নৌবহর বা 'আর্মাডা'র উপস্থিতির মাঝে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার উত্তেজনা এক নতুন মোড় নিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান সামরিক সংঘাত এড়াতে আলোচনার টেবিলে বসতে আগ্রহী। তবে তেহরান সোজা জানিয়ে দিয়েছে, তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে কোনো আপস করা হবে না। এর প্রতিক্রিয়ায় ওয়াশিংটন এখনও কিছু জানায়নি।
হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ইরানের হাতে সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। তিনি ইরানের সামনে সামরিক পদক্ষেপ এড়াতে প্রধানত দুটি শর্ত দেন। এক- পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করা। দুই- বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন-পীড়ন বন্ধ।
ট্রাম্প বলেন, যদি চুক্তি হয়, তবে ভালো; আর যদি না হয়, তবে কী ঘটবে তা আমরা দেখব। মার্কিন চাপের মুখেও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ইস্তাম্বুলে এক সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্ট করেন, ইরানের মিসাইল ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কখনোই আলোচনার বিষয়বস্তু হবে না। তবে তিনি পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও আস্থার ভিত্তিতে ন্যায়সঙ্গত আলোচনার পথ খোলা রাখার কথা বলেছেন।
একই সময়ে, ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান আলী লারিজানি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সাথে ক্রেমলিনে সাক্ষাৎ করেছেন। এই বৈঠককে আন্তর্জাতিক মহলে মার্কিন চাপের মুখে মিত্রদের সাথে ইরানের কৌশলগত সংঘাত এড়ানোর চেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অঞ্চলটিতে বিশাল মার্কিন নৌবহরের উপস্থিতি নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্য ছিল কিছুটা শ্লেষাত্মক। তিনি বলেন, তাদের (নৌবহর) তো কোথাও না কোথাও ভাসতে হবে, তাই তারা ইরানের কাছেই ভাসছে। এই অবস্থান ইরানের ওপর এক ধরনের মানসিক ও সামরিক চাপ বজায় রাখার কৌশল হিসেবে কাজ করছে।
ইরান একদিকে নিজেদের সার্বভৌমত্ব ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা রক্ষার কথা বলছে, অন্যদিকে ট্রাম্পের 'সর্বোচ্চ চাপ' প্রয়োগের নীতি দেশটিকে অর্থনৈতিক ও সামরিকভাবে কোণঠাসা করছে। রুশ মধ্যস্থতা এবং তুরস্কের মতো প্রতিবেশীর ভূমিকা আগামীতে সংঘাত এড়াতে কতটা কার্যকর হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
