মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান যুদ্ধের প্রভাবে পানামা খাল ব্যবহারকারী জাহাজের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। সোমবার (৩০ মার্চ) পানামা খাল কর্তৃপক্ষের এক কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী কার্যত অবরোধ করে রাখায় বিশ্ববাণিজ্যে এই পরিবর্তন এসেছে।
পানামা সিটি থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, স্বাভাবিক সময়ে বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস রপ্তানির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। সেটি অবরুদ্ধ থাকায় বিকল্প হিসেবে পানামা খালের ওপর চাপ বাড়ছে।
খালটির উপ-প্রশাসক ইলিয়া এস্পিনো দে মারোত্তা এক সাক্ষাৎকারে জানান, এ বছর আমরা প্রতিদিন গড়ে ৩৪টি জাহাজ চলাচলের আশা করেছিলাম। কিন্তু গত দুই সপ্তাহে সেই সংখ্যা বেড়ে ৩৮, ৩৯ এমনকি ৪০-এ পৌঁছেছে।
তিনি বলেন, গ্যাসের দাম ও নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করলে পানামা খাল একটি সংক্ষিপ্ত ও সাশ্রয়ী পথ। তবে প্রতিদিন ৪০টি জাহাজ চলাচল করা খালের সীমিত ধারণক্ষমতার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
বিশ্বের মোট সামুদ্রিক বাণিজ্যের প্রায় পাঁচ শতাংশ এই খাল দিয়ে সম্পন্ন হয়, যার প্রধান ব্যবহারকারী যুক্তরাষ্ট্র ও চীন। এই রুটটি মূলত যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলের সঙ্গে এশিয়ার চীন, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের সংযোগ রক্ষা করে।
কর্তৃপক্ষ জানায়, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের কারণে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) বহনকারী জাহাজের সংখ্যা আগে কমে গেলেও আগামী এপ্রিল নাগাদ তা আবারও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সাপ্লাই চেইন স্বাভাবিক রাখতে এবং বাড়তি জাহাজের চাপ সামলাতে কাজ করছে পানামা খাল কর্তৃপক্ষ।
আবারও লোহিত সাগর বন্ধ করে দিতে পারে ইয়েমেন!