ইসলামী বিপ্লবের নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়েদ আলী খামেনেই এবং মার্কিন-ইসরাইলি আগ্রাসী যুদ্ধের অন্য শিকারদের হত্যাকাণ্ডের চূড়ান্ত প্রতিশোধ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে ইরানের গোয়েন্দা মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়টি জানিয়েছে, এই জঘন্য অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠাই কেবল ইরানি জনগণ এবং বিশ্বজুড়ে স্বাধীনতার সমর্থকদের গভীর শোক ও ক্ষত লাঘব করতে পারে।
শনিবার (৪ জুলাই) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে ইরানের গোয়েন্দা মন্ত্রণালয় এই হুঁশিয়ারি দেয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরাইলি বিমান হামলা ও আগ্রাসী যুদ্ধ শুরুর পর থেকে দীর্ঘ চার মাসেরও বেশি সময় ধরে ইরানি জাতি এই নেতার শাহাদাতের শোক পালন করছে।
বিবৃতিতে আয়াতুল্লাহ খামেনেইকে ‘মর্যাদা, স্বাধীনতা, আত্মনির্ভরশীলতা, আত্মবিশ্বাস, অপমান মেনে না নেওয়া এবং নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের মহান শিক্ষক’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়। একই সঙ্গে এই হত্যাকাণ্ডকে ‘সমসাময়িক ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ অপরাধমূলক কাজ ও সন্ত্রাসী ষড়যন্ত্র’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে ‘মার্কিন-জায়নবাদী শত্রুর’ তীব্র নিন্দা জানানো হয়।
গোয়েন্দা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, এই জঘন্য অপরাধের জন্য দায়ি মূল হোতাদের ওপর প্রতিশোধ গ্রহণ ছাড়া ইরানের সাহসী জনগণ এবং বিশ্বের স্বাধীনতাকামীদের আহত হৃদয়ের রক্তক্ষরণ থামবে না। ঐশ্বরিক প্রতিশ্রুতি অনুসারে, এই কঠোর প্রতিশোধ ও উপযুক্ত শাস্তি অবশ্যই কার্যকর করা হবে।
বিবৃতিতে মন্ত্রণালয়টি ইসলামী বিপ্লবের বর্তমান নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়েদ মোজতবা খামেনেই-এর প্রতি তাদের আনুগত্যের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে। একই সঙ্গে ‘শহীদ নেতার রক্ত এবং চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের নিরীহ শিকারদের রক্তের প্রতি ফোঁটার প্রতিশোধ নেওয়ার’ শপথ করে সর্বস্তরের ইরানিদের জানাজায় অংশ নেওয়ার আহবান জানানো হয়।
চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরাইলি যৌথ বিমান হামলায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেই নিহত হন। দুই দেশের চাপিয়ে দেওয়া এই আগ্রাসী যুদ্ধে এ পর্যন্ত হাজার হাজার ইরানি বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন।
কোনো দুর্বৃত্তের কাছে মাথানত নয়: বিশ্বনেতাদের পেজেশকিয়ান