মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন, কিন্তু তার এই প্রচেষ্টা উল্টো বুমেরাং হয়ে দাঁড়িয়েছে। নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাত দিয়ে সংবাদ সংস্থা ফারস নিউজ জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন বর্তমানে এক নজিরবিহীন রাজনৈতিক ও কৌশলগত সংকটের মুখোমুখি। একদিকে ইরানের অনড় অবস্থান, অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক চাপের মুখে ট্রাম্পের রাজনৈতিক অস্তিত্বই এখন হুমকির মুখে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প ইরানের সাথে একটি বৈঠক ও যুদ্ধবিরতি চুক্তির জন্য পর্দার আড়ালে ব্যাপক চেষ্টা চালাচ্ছেন। এর প্রমাণ হিসেবে বলা হয়েছে, অন্তত পাঁচটি বন্ধুপ্রতিম দেশের সরকার প্রধান এবং আটটি গোয়েন্দা সংস্থা ইরানের সাথে আলাদা যোগাযোগ করেছে। তারা সবাই মূলত ট্রাম্পের পক্ষ থেকেই যুদ্ধবিরতির একটি পথ খোঁজার চেষ্টা করছে। ইরানের জন্য ট্রাম্প যে আলোচনার সময়সীমা বা ডেডলাইন বেঁধে দিয়েছিলেন, সেই সময় ঘনিয়ে আসায় তার ওপর রাজনৈতিক চাপ এখন তুঙ্গে।

সূত্রটি জানিয়েছে, এই পরিস্থিতির ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের পতন ত্বরান্বিত হতে পারে এবং প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতা ধূলিসাৎ হওয়ার পথে। শুধু ট্রাম্প নন, মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রীও বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। সম্প্রতি মার্কিন সেনাপ্রধানকে বরখাস্ত করার পেছনেও এই যুদ্ধকালীন অস্থিরতা ও মতভেদ দায়ী ছিল বলে মনে করা হচ্ছে। গুঞ্জন রয়েছে, বর্তমান প্রতিরক্ষামন্ত্রীর স্থলাভিষিক্ত হতে পারেন ‘ডন ড্রিকসন’।
গত দুই দিনে ইরানের ইসফাহানে মার্কিন সামরিক অভিযানের শোচনীয় ব্যর্থতা বা ‘বিপর্যয়’ হোয়াইট হাউসের ওপর চাপ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, গত ২৪ ঘণ্টায় মার্কিন সরকার এমন সব দেশের কাছে ‘অনুনয়-বিনয়’ করছে যাদের ইরানের ওপর সামান্যতম প্রভাব রয়েছে। এই সময় মার্কিন কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন, ইসরাইলি সরকার এবং শক্তিশালী ইহুদি লবি ট্রাম্পের ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করছে। ট্রাম্প এই কৌশলগত পরাজয় আঁচ করতে পারলেও তা মেনে নিতে পারছেন না।

রাজনৈতিক চাপের পাশাপাশি অর্থনৈতিক বিপর্যয়ও ওয়াশিংটনকে ভাবিয়ে তুলেছে। মার্কিন প্রশাসনের আশঙ্কা, আগামী সপ্তাহ থেকে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী হতে পারে। যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালী ও বাবু আল-মান্দাব সংকটের যে প্রভাব পড়তে শুরু করেছে, তার ঝুঁকি নিতে চাইছে না ট্রাম্প প্রশাসন। সব মিলিয়ে, ট্রাম্পের ইরান নীতি এখন এক অন্ধগলিতে এসে ঠেকেছে।
যুদ্ধের ময়দানে ক্রমাগত ব্যর্থতা এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক কোন্দল ট্রাম্পের হোয়াইট হাউসকে এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। ইরান শেষ পর্যন্ত কোনো আলোচনায় রাজি না হলে ট্রাম্পের এই ‘মরিয়া প্রচেষ্টা’ তার প্রশাসনের জন্য চূড়ান্ত পরাজয় ডেকে আনতে পারে।
