জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু মধ্যপ্রাচ্যে তাঁর সরকারের সামরিক পদক্ষেপের পক্ষে জোরালো সাফাই গেয়েছেন। আগামী ২৭ অক্টোবরের সাধারণ নির্বাচনে নিজের সম্ভাব্য পরাজয় এড়ানো এবং ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতা মোকাবিলার লক্ষ্যে দেয়া এই ভাষণের শুরুতেই এক নজিরবিহীন প্রতিবাদের মুখে পড়েন তিনি।
নেতানিয়াহু ডায়াসে ওঠার সাথে সাথেই বহু দেশের প্রতিনিধি দল অধিবেশন কক্ষ ত্যাগ করে বেরিয়ে যান। সেসময় গ্যালারিতে থাকা তাঁর সমর্থকেরা হিব্রু ভাষায় স্লোগান দিলে প্রস্থানকারী কূটনীতিকদের ‘নৈতিক কাপুরুষ’ বলে কটাক্ষ করেন তিনি।

আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে নেতানিয়াহু প্রায় ৪০ মিনিট স্থায়ী এই ভাষণটিকে মূলত নির্বাচনী প্রচারণার মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করেন, যা ইসরাইলের শীর্ষ চার টিভি চ্যানেলে সরাসরি সম্প্রচারিত হয়।
নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানির কঠোর সমালোচনা করে নেতানিয়াহু বলেন, মামদানি তাকে যুদ্ধাপরাধী বললেও প্রকৃত সত্য হলো ইসরাইল গণহত্যা চালায়নি, বরং গণহত্যা প্রতিরোধ করেছে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের জানুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়া মেয়র মামদানি ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকালে তাঁকে ফিলিস্তিনিদের ওপর সংঘটিত ভয়াবহ গণহত্যার মূল কারিগর হিসেবে আখ্যা দেন।

জবাবে নেতানিয়াহু নিউইয়র্কের মেয়রসহ পশ্চিম ইউরোপের বিভিন্ন দেশের নেতাদের বিরুদ্ধে সেমিটিকবিদ্বেষী মনোভাব ও চরমপন্থীদের কাছে নতি স্বীকারের অভিযোগ তোলেন।
জাতিসংঘে নিজের অবস্থান জোরদার করতে এবং ইসরাইলবিরোধী জনমত সামাল দিতে নিউইয়র্কে ৫০০টিরও বেশি প্রোপাগান্ডা বিলবোর্ড ও বার্তাবাহী ট্রাক নামায় ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।
বরাবরের মতো এবারও ভাষণে বিভিন্ন সরঞ্জাম প্রদর্শন করেন নেতানিয়াহু; লেবাননের হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ব্যবহৃত একটি পেজার এবং ইরানের প্রতিনিধিদলের জন্য একটি স্টারলিংক স্যাটেলাইট রিসিভার উঁচিয়ে ধরে তিনি দাবি করেন, শিগগিরই ইরানি জনগণ তাদের বর্তমান শাসনব্যবস্থাকে উৎখাত করবে।

যদিও আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এবং ব্রিটেন, ফ্রান্স ও কানাডার আরোপিত নিষেধাজ্ঞায় ইসরাইল কূটনৈতিকভাবে চরম কোণঠাসা, তবুও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাহসিক নেতৃত্বের প্রশংসা করে নেতানিয়াহু যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
অন্যদিকে অধিবেশন কক্ষের বাইরে ও নিউইয়র্কের রাজপথে শত শত বিক্ষোভকারী ফিলিস্তিন ও ইরানে হামলা বন্ধের দাবিতে স্লোগান দিলে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স
